নীলফামারীর সৈয়দপুর প্রধান ডাকঘর বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থেকেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিলেও এখনো প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডাকঘরের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা কাজ করছেন। “হঠাৎ করে যদি কোনো অংশ ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা তাদের কণ্ঠে স্পষ্ট। সেবা নিতে আসা গ্রাহকরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ সারলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারী গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি আরও বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সমস্যাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ভবনটির সংস্কার বা বিকল্প নিরাপদ স্থানে ডাকঘরের কার্যক্রম স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে কিছুদিন হল ভবনটির চুনকাম করা হয়েছে। খসে পড়া ফাটল স্থান সাময়িক চলার জন্য পলেস্তর করা হয়েছে। কিন্তু এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়। সামগ্রিকভাবে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই সৈয়দপুর প্রধান ডাকঘরের কার্যক্রম চালু থাকায় জনমনে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা, যা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।