ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্ধারিত তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা অযোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং সেই রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল থাকে ইসির চূড়ান্ত শুনানিতে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দীর্ঘ শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন গ্রহণের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রার্থিতা বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই।
মনোনয়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর বিধান। ওই আইনের ১২ (১) (চ) ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। মনিরা শারমিন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পদত্যাগ করেন, ফলে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়নি বলে ইসির ব্যাখ্যা।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল যাচাইবাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন মনিরা শারমিন। তবে আপিল শুনানিতেও তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “আইনগতভাবে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি।”
শুনানির পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগের মনোনয়ন বৈধ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বাতিল ও যাচাইবাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি থেকে পদত্যাগের পর প্রার্থিতার যোগ্যতা নিয়ে আইনের কঠোর ব্যাখ্যা নতুন করে সামনে এসেছে।