দৌলতপুরে পীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
দৌলতপুরে পীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার    দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে কথিত পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর  ওরফে শামীম  (৫৭) হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃত রাজীব মিস্ত্রি (৩২) এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। তিনি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা গাজী মিস্ত্রির ছেলে। কুষ্টিয়া সিপিসি-১, র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার রাত সাড়ে ১১টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার সময় র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ও র‌্যাব-৫ সদর কোম্পানির একটি যৌথ অভিযানে উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা গাজী মিস্ত্রীর ছেলে রাজীব মিস্ত্রি (৩২) কে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন থানা রোড নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই হত্যা মামলায় রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) ও সোমবার রাতে ইসলামপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন (১৬)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে তুলে ফিলিপনগর ইউনিয়নে বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর শামীম  নামের পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও ৩ অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এরপরে গত ১৩ এপ্রিল সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে