রাজশাহীর বাগমারায় ২১ কৃষকের জমি দখল করে মাছচাষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চার বছর ধরে দখল করে মাছ চাষ করা হলেও কৃষকদের কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকেরা জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও দখলকারী বাবা ও ছেলে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে পারছেন না। গতকাল শনিবার বিকেলে বাগমারা প্রেসক্লাবে এসে কৃষকেরা এমন অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন,‘ যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁদের অনেকে এক সঙ্গে ছিলেন। গত দুই বছর ধরে মাছচাষ করা খালের মুখে পানি থাকায় তাঁদের চাহিদা বেড়ে গেছে। এজন্য অভিযোগ করছেন। মাছচাষ বিষয়ে চুক্তি আছে।' এবিষয়ে সামনাসামনি কথা বলবেন বলে জানান।
উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের নখোপাড়া- বাজেকোলা খালের মুখে থাকা আশপাশের কৃষকদের ৬৫ বিঘা জমি কৌশলে দখলে নেন নখোপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী আমজাদ ও ফারুক হোসেন। তাঁরা পরস্পরের বাবা- ছেলে। তিনি প্রথমে জমির মালিকদের ইজারা হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। অনেক কৃষক আপত্তি জানালেও দখলকারী বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে সেখানে মাছচাষ শুরু করেন। তবে কৃষকদের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেন না। কৃষকদের অভিযোগ টাকা চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করা ছাড়াও উল্টো হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে পাঁচ বছর ধরে প্রভাবশালী কৃষকদের জমি দখল করে মাছচাষ করে আসছেন।
আজ রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে খালের মুখে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করে মাছচাষ করতে দেখা যায়। পাশের জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সেখানে ধানে পাক ধরেছে, তবে পাশের জমিতে পানি রয়েছে। সেখানে প্রভাবশালী বাবা- ছেলে মিলে মাছচাষ করছেন।
যোগীপাড়া গ্রামের কৃষক বয়েন উদ্দিন, মোসলেম আলী, নখোপাড়ার সোহেল রানা, বাজে কোলা গ্রামের রহিদুল ইসলাম, আব্বাস আলীসহ ২০ কৃষক বাগমারা প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগ করেন, আগে তাঁরা নিজের জমিতে ধানচাষ করতেন। তবে প্রভাবশালী আমজাদ হোসেন ও তাঁর ছেলে ফারুক হোসেন কৌশলে তাঁদের জমি দখল করে তা মাছচাষের উপযোগী করে মাছচাষ শুরু করেন। দখলদারের অনুসারী ৪-৫ জনকে কিছু টাকা দেওয়া হলেও অন্যদের কোনো টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি। জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে বা টাকা চাইলে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়াও সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করার চাষাবাদও করতে পারছেন না কৃষকেরা।
যোগীপাড়া গ্রামের কৃষক মীর বকস বলেন,‘আমার চার বিঘা জমি আছে, আগে সেখান থেকে ১০০ মণ ধান পাওয়া যেত। এখন আর পারছি না। জমিও ছাড়ে না টেকাও দেয় না। কী যে বিপদে পড়েছি।’ আরেক কৃষক বলেন, দখলকারীরা প্রভাবশালী। সব সময় এলাকার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রশ্রয়ে থাকেন। এজন্য কিছু বলা যায় না।
ওই এলাকার বাসিন্দা জাতীয়তাবাদী রিক্সা, ভ্যান, অটো চালক দলের রাজশাহী জেলার সদস্য সচিব মহব্বত আলী জানান, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃষকদের জমি দখল করে মাছচাষ করছেন। কৃষকেরা তাঁদের জমি ফেরত পাচ্ছেন না, তাদের কোনো টাকাও দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকেরা তাঁকেও বিষয়টি জানিয়েছেন।