দুই ভাইয়ের শেষ বিদায়েও থাকতে পারেননি আসলাম

সীতাকুণ্ড বিএনপিতে অমলিন ইসহাক কাদের চৌধুরী

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
সীতাকুণ্ড বিএনপিতে অমলিন ইসহাক কাদের চৌধুরী

দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যুতে শেষবারের মতো তাঁদের মুখ দেখা কিংবা জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও হয়নি তাঁর। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি থাকায় বড় ভাই সীতাকুণ্ড বিএনপির প্রবীণ নেতা ইসহাক কাদের চৌধুরী এবং আরেক ভাই মইন চৌধুরীর শেষ বিদায়ে পাশে থাকতে পারেননি বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনেরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সীতাকুণ্ড বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইসহাক কাদের চৌধুরীর স্মরণে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে মারা যান ইসহাক কাদের চৌধুরী। সে সময় রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলেন তাঁর ছোট ভাই আসলাম চৌধুরী। স্বজনদের ভাষ্য, বড় ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর জানাজায় অংশ নেওয়া ও শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি বলে তাঁদের অভিযোগ। ফলে ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিলস গেটসংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে আরেক ভাই মইন চৌধুরীর মৃত্যুর সময়ও কারাবন্দি থাকায় তাঁর শেষ বিদায়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সময় কারাগারে থাকার এই অভিজ্ঞতা পরিবারের কাছে আজও বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

ইসহাক কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল, জাগদলের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। জীবনের শেষভাগে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সংগঠন পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে সীতাকুণ্ড বিএনপির পরিচিত সংগঠকে পরিণত করে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আলোচনায় তাঁর নামও ছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান ছোট ভাই আসলাম চৌধুরী। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইসহাক কাদের চৌধুরীকেও একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাদ আছর শুরু হওয়া ধারাবাহিক দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার আছরের নামাজ শেষে সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মসজিদে ইসহাক কাদের চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খতিব ও ইমামের পরিচালনায় মোনাজাতে মরহুমের জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের ছোট ভাই বিএনপি'র সাবেক যুগ্ন মহাসচিব, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব অধ্যাপক ইসলাম চৌধুরী এফসিএ ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল  কদর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, সদস্যসচিব মো. মোরসালিন, ফজলুল করিম চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপি'র আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব ছালে আহমদ ছলু, আনোয়ার চেয়ারম্যান, নুর উদ্দিন চৌধুরী জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান, দিদারুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর, খোরশেদ আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহরম আলী, ইদ্রিস মেম্বার ও মুনছুর মেম্বারসহ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে