শশুর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে এক ব্যক্তি। অসুস্থ শিশু কন্যাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের দিন রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মহিষতারা গ্রামে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুলাল উদ্দিনকে বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। র্ধর্ষকের গ্রেপ্তারের খবরে উত্তেজিত এলাকাবাসী র্ধর্ষকের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী আরও কয়েকটি বাড়িতে অগুন দেয়।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানায়,ময়মনষিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নামা মহিষতারা গ্রামের মৃত মন্নেছ আলীর ছেলে মো. দুলাল উদ্দিন (৪০) একই এলাকার মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের নয় বছরের এক ছাত্রীকে ঈদের দিন সোমবার বিকালে তার শশুর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। এ দিন তার নিজের ছোট মেয়েকেও সাথে নিয়ে বটতলা গ্রামের শশুর বাড়িতে নিয়ে যায় শিশু শিক্ষার্থীকে। পরে নিজের মেয়েকে শশুর বাড়িতে রেখে ওই শিশুকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে দুলাল উদ্দিন। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুকে একটি ভ্যানে করে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পৌছে দেয়। অসুসত’ অবস্থায় বিষয়টি তার পরিবারকে জানায় । এদিন পরিবারের লোকজন দুলালকে আটক করতে গেলে স্থানীয় মজিদ মিয়া ,দুলালকে কৌশলে ভাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ অসুস্থ শিশুকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় ওইদিনই ধর্ষকের ও সহযোগি মজিদের বাড়িঘর ভাংচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে বুধবার মুক্তাগাছার লেংড়া বাজােরের একটি বাড়ি থেকে র্ধর্ষক দুলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী আবারও র্ধর্ষকের অবশিষ্ট বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় ঘটনার সাথে সহযোগিতার অভিযোগে আরও ৭টি বাড়িতে আগুন দেয় ও লুটপাট চালায় উত্তেজিত এলাকাবাসী।
র্ধর্ষণের শিকার তার বড় বোন বলেন, ‘দুলাল ঈদের দিন বিকেলে তার নিজের মেয়ের সাথে আমার ছোট বোনকে নিয়ে তার শশুর বাড়ি বটতলায় বেড়াতে যায়। পরে সারা রাত আমরা আমাদের বোনের কোন খবর পায়নি। মঙ্গলবার সকালে দুলাল আমার বোনকে নিয়ে আসে। তখন আমরা দেখি আমাদের বোন খুবই অসুস্থ। পরে সে জানায় দুলাল তাকে ধর্ষণ করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এলাকাবাসী জানায়, এ ধরণের অপরাধীর ঠিকানা আমাদের এলাকায় হবে না। এ কারেনেই এলাকাবাসী র্ধর্ষকের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমারা তার ফাঁসি দাবি করছি। এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত দুলাল উদ্দিনকে অনেক চেষ্টার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাকে উত্তেজিত জনাতার হাত থেকে বাঁচাতে গোপনীয়তার সাথে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আসামীকে না পেয়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী তার বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।