দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, দুজন শিশু ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেনÑদিলীপ বিশ্বাস (৪৩), তার স্ত্রী সাধনা মন্ডল (৩৭) ও শ্বশুর আশীষ মন্ডল (৫০); ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬), তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), ভাই মুক্তার হোসেন (৬০), মেয়ে আনিসা (১৬) ও লিয়ানা (৮) এবং ভাগিনা তানিফা ইয়াসমিন (১৬)। অপরজন হলেন মাইক্রোবাসের চালক ঢাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী (৫৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে। চালক বেশ কয়েকবার থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, রাস্তার একটি মোড় এবং লবণবাহী একটি গাড়ির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে মরদেহগুলো হাইওয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় ৪৮ ঘণ্টায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঈদের দিন সোমবার দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। এরপর ১ এপ্রিল একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আটজন আহত হন। একাধিক দুর্ঘটনার কারণে এ স্থানটি এখন ‘দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।