থামছে না দলীয় কন্দোল

তানোরে খুনের দায়ে বহিষ্কৃত নেতারাও বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে অতিথি

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী : | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৫, ০৮:২৮ পিএম
তানোরে খুনের দায়ে বহিষ্কৃত নেতারাও বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে অতিথি

রাজশাহীর তানোরে খুনের দায়ে বহিষ্কৃত নেতাদের কেউ বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরমক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শনিবার ২৮ রমজান পড়ন্ত বিকেলে তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে বহিষ্কৃত এসব নেতাদের অতিথি করা হয়। সম্প্রতি ১১ মার্চ মঙ্গলবার তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে গানিউলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এনিয়ে নিহত গানিউলের ভাই সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোমিন বাদি হয়ে মোট ৩৭ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমান ২ নম্বর আর থানা যুবদলের আহবায়ক গোলাম মূর্তুজা ৪ নম্বর আসামী। তবে, সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে তারা জামিনে আছেন বলে জানান। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কৃত হবার পরও দলীয় মঞ্চে দেখা গেছে এমন প্রশ্নে তারা এড়িয়ে গেছেন। এঘটনায় বিএনপির দলীয় ইফতার আয়োজনে শৃংখলা ভঙ্গ করে হত্যাকান্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমানের প্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামী মিজান ও মজিবরকে প্রাথমিকসহ বিএনপির দলীয় সকল প্রকার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত ১৩ মার্চ রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, যুগ্ন-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর অনুলিপি বিএনপির দলীয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রদান করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আধিপত্ত্যর বিস্তার নিয়ে তানোরে থামছে না দলীয় কন্দোল। দিন যত যাচ্ছে দলের ভিতর প্রকট হচ্ছে হামলা আর মামলা। ফলে খুনের দায়ে দলটির দুইজন প্রভাবশালী নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এরপরও তারা নতযন হননি। থামছে না তাদের দলীয় প্রভাব। হাইকোর্ট থেকে সম্প্রতি তারা জামিন নিয়ে বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে অতিথি হয়েছেন। সেই মঞ্চে প্রভাব খাটিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনটি বলেছেন তানোর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম এ মালেক মন্ডল। এমন খুনোখুনির পরও তানোরে বিএনপির ইফতারে ফের দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তানোর উপজেলার রাতৈল বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাজারের একটি মুদিদোকানে ব্যাপক লুটপাটের পর ভাঙচুর করা হয়েছে। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার চান্দুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন। তবে, ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি আজাদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলী এই ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। সন্ধ্যার পর মফিজ উদ্দিনের সমর্থক ও আজাদ আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে মো. রনি, তাঁর ভাই মো. সজীব, গোলাম রাব্বানী, মো. শামীম, মো. জনি, রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম, মুদিদোকানি দুরুল হুদা ও তাঁর ছেলে মো. মিনু আহত হন। এছাড়াও জিয়াবুর রহমান, আজিজুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, সাহাবুর ইসলাম, মো. সুমন ও নেকশাদ আলী আহত হন। আহতদের সবাইকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, এঘটনায় কোন পক্ষই মামলা করেননি। জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বলেন, বিএমডিএর ডিপ নিয়ে গন্ডগোল হয়েছে। আমার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের ঘটনা। আমি ওই এলাকায় দুই বছর ধরে যাইনি। আমার কোনো লোকও মারামারিতে যায়নি।’ তবে আজাদ আলীর পক্ষের লোকজনের হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানান মফিজ উদ্দিন। তিনি তাঁদের নামও জানান। এবিষয়ে তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, চাঁন্দুড়িয়ায় মারামারিতে দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। তবে কী নিয়ে ঘটনা, তা জানি না। কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলে ঘটনা সম্পর্কে বলা যাবে। অভিযোগ হলে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে, পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে গানিউলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যরা জামিনে হছেন বলে জানান ওসি। ই/তা

0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 SAD
0 ANGRY
0 WOW
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে