মহাদেবপুরে পালিত হয়নি ২৫ মার্চের গণহত্যার ব্ল্যাক আউট

এফএনএস (রওশন জাহান, মহাদেবপুর, নওগাঁ) : : | প্রকাশ: ২৬ মার্চ, ২০২৫, ০১:২০ পিএম
মহাদেবপুরে পালিত হয়নি ২৫ মার্চের গণহত্যার ব্ল্যাক আউট

সারাদেশে ২৫ মার্চের গণহত্যার প্রতিবাদে ১ মিনিক প্রতীকী ব্ল্যাক আউট পালিত হলেও নওগাঁর মহাদেবপুরে তা পালন করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে পুরো উপজেলা জুরে স্বাভাবিক ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। স্বাভাবিক আলো জ্বলেছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্ত্বর, বাজারসহ সব জায়গায়। এসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ১ মিনিট অন্ধকার রাখার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে জাতীয়ভাবে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১ মিনিট ব্ল্যাক আউট পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত কয়েক বছর ধরে মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই ব্ল্যাক আউট পালিত হয়ে আসছে। গত ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের “২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫ উদযাপনের লক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভার কার্যবিবরণীর” ৫নং সিদ্ধান্তেও ২৫ মার্চ রাত ১০.৩০ মি: থেকে ১০.৩১ মিনিট পর্যন্ত সমগ্র উপজেলায় প্রতীকী ব্ল্যাক আউট পালনের কথা লেখা হয়। এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে রাখা হয় উপজেলা প্রশাসন এবং নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে। রাত ১০টা ২৯ মিনিট থেকে স্থানীয় জনপ্রিয় অনলাইন ও ফেসবুক আইডি ‘মহাদেবপুর দর্পণ’ থেকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্ত্বরে লাইভ দেখানো হয়, ব্ল্যাক আউট কিভাবে পালিত হয় তা দেখানোর জন্য। কিন্তু ১০টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত লাইভে দেখা যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

জানতে চাইলে মোবাইলফোনে মহাদেবপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রবিউল ইসলাম প্রথমে বলেন রাত ৯টায় ব্ল্যাক আউট করা হয়েছিল। এসময় ব্ল্যক আউটের নির্দেশ তাকে কে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্মচারিরা ভূল করেছে কিনা তা খোঁজ নিবেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের শুরুতেই গোড়াই গলদ তৈরি করায় পুরো দিবস পালনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টিকে ইচ্ছে করে অবহেলা করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর এখানে ব্ল্যক আউট পালন করা হয় শুধুমাত্র বিদ্যুতের সংযোগ স্লুইচ বন্ধ রেখে। কিন্তু উপজেলা পরিষদের সব ভবন, বাজার এমনকি অনেক বাসাবাড়িতেও আইপিএস লাগানো আছে। ফলে স্লুইচ বন্ধ করার সাথে সাথেই এসব স্থান অন্ধকার হয়ে যায়না। বরং আইপিএস এর আলোতে সাথে সাথেই আবার আলোকিত হয়ে ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সোলার নিয়ন্ত্রিত স্ট্রিক লাইট দেয়া আছে। এগুলোও বন্ধ হয়না। ফলে সরকার যে কারণে ব্ল্যাক আউটের কর্মসূচি গ্রহণ করে তা মোটেও বাস্তবায়ন হয়না এখানে। এটা দেখানোর জন্য মহাদেবপুর দর্পণে লাইভ দেখানো হয়। কিন্তু এবার ঘটনা আরো জটিল হয়ে যায়।

0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 SAD
0 ANGRY
0 WOW