লালপুরে ঈদের নামাজ শেষে জয় বাংলা স্লোগান; ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি বর্ষণ

এফএনএস (এ.কে. আজাদ সেন্টু; লালপুর, নাটোর) : : | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৫, ০৮:২৭ পিএম
লালপুরে ঈদের নামাজ শেষে জয় বাংলা স্লোগান; ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি বর্ষণ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় ঈদের নামাজ শেষে জয় বাংলা স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা গুলি বর্ষণ ঘটনা ঘটেছে। এতে এক জন গুলিবিদ্ধ সহ ৫ আহত হয়েছে। এই ঘটনায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে মেহেদী হাসান মুনসহ সহ ৭জনকে আটক করেছে । এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সকাল আনুমানিক ৯টায় দিকে লালপুর উপজেলার বালিতিতা রামকৃষ্ণপুর ঈদগাহে এঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রামকৃষ্ণপুর চিনি বটতলা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি বর্ষণ করতে করতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিএনপি ও স্থানীয় মুসল্লীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় রামকৃষ্ণপুর গ্রামের লুকমান হোসেনের ছেলে সাব্বির (২৪) আহত হন। তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক উপস্থিত লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ মুসল্লীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লালপুর  ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম লুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা এটিএম জাহিদুল আলম ডলার, জিয়াউর ও আলাউদ্দিন। তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি পরিকল্পিতভাবে ঈদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে । বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এঘটনার পর রামকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগ্নেয় অস্ত্র নিয়েগুলি বর্ষণ করতে করতে রামকৃষ্ণপুর চিনি বটতলা মোড়ে প্রবেশ করে। এসময় সুজাত নামের এক বিএনপি কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গুলিবিদ্ধ সুজাত জানান, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমির হোসেন টেগুর ছেলে ফরহাদ হোসেন নান্নু তাকে গুলি করে। সে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়রা জানায়, এসময় অর্ধশতাধিক গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯জন কে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসা বাদ শেষে ২জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 SAD
0 ANGRY
0 WOW
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে