নাটোরের লালপুরে ফকিরচাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাইজির আশ্রমের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আশ্রমের সভাপতি সঞ্জয় কুমার কর্মকারের উপর দূর্বত্তদের অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহত সঞ্জয় কুমার কর্মকার (৫৫) গোসাই আশ্রমের সভাপতি ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক । তিনি উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের অনিল কর্মকারের ছেলে। আহত খোকন (৪০) নাগশোষা গ্রামের শ্যামল কর্মকারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের সুধীর মন্ডলের ছেলে উত্তম কুমারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গোসাই আশ্রমের কমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সঞ্জয় কুমার কর্মকারের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দূবৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গী খোকন বাধা দিতে এলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। স্থানীয়রা সঞ্জয় কুমার কর্মকার ও খোকনকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
আহত সঞ্জয় কুমার কর্মকার জানান, স্থানীয় উত্তম, মিলটন ও সিরাজের নেতৃত্বে অজ্ঞাতরা হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে আশ্রম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশীষ কুমার সরকার সুইট জানান, আশ্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।আশ্রমের বিরোধ নিয়ে মামলাও চলছে। বুধবার আদালতে মামলার শুনানি ছিল। আদালত পূর্বের কমিটি বহাল রেখে একটি আদেশ দেন। এই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিপক্ষরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে সঞ্জয় কর্মকার ও খোকনকে রক্তাক্ত জখম করে।
এবিষয়ে উত্তম কুমার মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করে জানান, এমন নোংরা কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মারপিটের ঘটনা আমি সকালে শুনেছি। এব্যাপারে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, এবিষয়টি অবগত আছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।