শ্রীমঙ্গলের কালাপুর এলাকা থেকে একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউণ্ডেশন ও বন্যপ্রাণী বিভাগ। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল কার্যালয় সুত্র জানায়, আজ সোমবার ভোরে উপজেলার কালাপুর এলাকায় অবস্থিত কাজী ফার্মে একটি লজ্জাবতী বানর দেখতে পেয়ে কাজী ফার্মের ব্যবস্থাপক স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সেবা ফাউণ্ডেশনকে ফোনে খবর দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউণ্ডেশনের পরিচালক সজল দেব এবং বন্যপ্রাণী বিভাগের ফরেস্ট গার্ড সুব্রত সরকার ঘটনাস্থল থেকে লজ্জাবতী বানরটি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী বিভাগ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এর ইংরেজি নাম স্লো লরিস। এরা লরিমিডি পরিবারের অতিবিপন্ন বানর প্রজাতি।লজ্জাবতী বানর দেখতে অনেকটা ছোট আকারের। মাথা গোলাকার, মুখ চ্যাপটা, মায়াবী চোখ। এদের শরীরে সাদা লোমের আধিক্য নজরে পড়ে। কান ছোট, লেজ খাটো। ওজন ১-২ কেজি। অনুকূল পরিবেশ পেলে মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর বেঁচে থাকে। স্ত্রী বানরটি বছরে মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। গাছের কচি পাতা, ছোট ছোট পোকামাকড় এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। এরা খুব শান্ত প্রাণী। অন্যান্য বন্য প্রাণীর চেয়ে বেশ ধীরে চলে। এরা নিশাচর। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনে চলাচল করে না। শ্রীমঙ্গলের ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার কাজী নাজমুল হক জানান, লজ্জাবতী বানরটি সুস্থ রয়েছে এবং লাউয়াছড়া জাতীয় পার্কের রেসকিউ সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ২/৩ দিন পর এটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করে দেয়া হবে।