কলাপাড়ায় দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

অধ্যক্ষকে কক্ষ থেকে বের করে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষকরা

এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
অধ্যক্ষকে কক্ষ থেকে বের করে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষকরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জেষ্ঠতা লঙ্ঘন, দুর্নীতি,  স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ধানখালী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে বের করে  কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষকরা। সোমবার দুপুরে এই ঘটনায় এলাকায়  শিক্ষক ও  শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ায় তাকে লাঞ্চিত করেছে, কক্ষে তালা ঝুলিয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।  নয় মাস আগে অনিয়মের অভিযোগে ধানখালী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষকে তার পদ থেকে অপসারণের পর কলেজ কমিটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন আবুল কালাম আজাদ কে। গত প্রায় নয় মাস তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর থেকেই তার পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় শিক্ষকদের মধ্যে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজ কমিটি কলেজ শিক্ষকদের জেষ্ঠতা মানেন নি। ১০ জন শিক্ষকের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ জেষ্ঠতার তালিকায় সপ্তম। কিন্তু তার প্রভাবে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করতে বাধ্য হয়েছে।  এ কারনে তার পদায়নের পর থেকেই শিক্ষকরা ক্ষোভে ফুসছে। সবশেষ সোমবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে কক্ষ থেকে বের করে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং তার নাম প্লেট খুলে ফেলে। শিক্ষকদের পক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ বলেন,  তাদের দাবি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে জেষ্ঠতার ভিত্তিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হোক। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন শিক্ষকরা। এমনকি কলেজের হিসেবে টাকা না রেখে নিজ তহবিলে রেখে ইচ্ছেমতো খরচ করেন।  এছাড়া কলেজে অনেক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও আবুল কালাম আজাদ কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের  সম্মান নষ্ট হয়েছে বলে  জানান।  তাই অতি দ্রুত তাকে অপসারণের দাবি জানান। আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও প্রভাষক তারেক আমান সুমন বলেন, এই  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তারা  মানেন না। তাকে এ পদ থেকে না সরানো পর্যন্ত এ কক্ষে তালা ঝুলানো থাকবে। কলেজের ২০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৯ জন শিক্ষক তাকে সরানের আন্দোলনে সহমত পোষণ করেছে। এছাড়া বর্তমান অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে আসেন না।  এ কারনে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।  এদিকে হঠাৎ করে শিক্ষকদের এ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হতবাক শিক্ষার্থীরা। কলেজে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। এমনকি শিক্ষকরাও ছাত্র সংকটে ক্লাস নিতে পারছে না। অধিকাংশ ক্লাসই ছিলো খালি। এ বিষয়ে একাধিক  শিক্ষার্থীরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা শিক্ষকদের এ কলহ দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। এবিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ  বলেন, প্রশাসন ও কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে পদায়ন করেছে।  কিন্তু আজ তাকে লাঞ্ছিত করে  কক্ষ থেকে বের করে তালা ঝুলিয়েছে। যারা এ কাজ করেছে তারা ফ্যাসিবাদের দোসর। এ বিষয়ে তিনি  উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে