পিরোজপুরের জিয়ানগরে এক গরীব প্রতিবেশীর জমি দখল করার জন্য একে একে ৬/৭টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি মামলায় রায় পেলে বা খারিজ হলে নতুন করে আবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা এবং হয়রানি থেকে রেহাই পেতে ভূক্তভোগী আব্দুর রহিম ফকির মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। হয়রানির প্রতিকার ও সহায়তা পেতে তিনি গত ৫ এপ্রিল জিয়ানগর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন।
আব্দুর রব ফকিরের আবেদন এবং সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইন্দুরকানী গ্রামের আব্দুস ছত্তার মাতুব্বরের ছেলে সৌদি প্রবাসী মোঃ হেমায়েত মাতুব্বর ও তার ভাই মোশারেফ মাতুব্বর একই গ্রামের আজাহার ফকির ও রারেক ফকিরের কাছ থেকে ১২ বছর আগে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সম্পূর্ন জমিতে তারা দুই ভাই বহুতল ভবন নির্মান করেন। হেমায়েত মাতুব্বর জমিদাতা রহিম ফকিরের ভাইপো আব্দুর রব ফকিরের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পথচলাচল শুরু করেন। এতে আব্দুর রব ফকির রাজি না হওয়ায় হেমায়েত মাতুব্বর ২০১৬ সালে আব্দুর রব ফকির ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় আব্দুর রব ফকির রায় পেলে আবার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এভাবে হেমায়েত মাতুব্বর এবং তার স্ত্রী বিউটি আক্তার বাদী হয়ে আব্দুর রব ফকিরের বিরুদ্ধে একে একে ৭ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছেন। আদালত সব মামলায় আব্দুল রব ফকির গং এর পক্ষে রায় দেন। সর্বশেষ ২৪/০৩/২০২৬ইং তারিখ আব্দুল রব ফকির একটি মামলায় রায় পেলে পরেরদিন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হেমায়েত মাতুব্বর তার স্ত্রী বিউটি আক্তাকে বাদী করে রব ফকিরের বিরুদ্ধে আরো একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আব্দুল রব ফকির বলেন, আমি পৈত্রিক সম্পতিতে বসবাস করি। হেমায়েত মাতুব্বর যে জমি ক্রয় করেছেন ঐ জমির সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তার চলার কোন পথ নেই। তিনি আমাদের সম্পত্তি থেকে জোর করে চলাচল করেন। তার নির্মানকৃত ভবনের সামনের সম্পূর্ন জমি আমাদের। তার সাথে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই, জমি নিয়েও বিরোধ নেই। তারপরেও আমার জমি দখল করতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। এ বিষয় হেমায়েত মাতুব্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ২৮ শতক জমি কিনেছি। সব জমি এখনো বুঝে পাইনি। আমি জমির দখল বুঝে পাওয়ার জন্য মামলা করেছি। আমি তাকে কোন হয়রানি করিনি বরং আঃ রব ফকির বেড়া দিয়ে আমার চলাচলের পথ বন্ধ করেছিল।