কালীগঞ্জসহ জেলার ছয় উপজেলায় চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেও ২২৬ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের ধারনা নেপথ্যে হতে পারে বাল্যবিয়ের প্রভাব। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে,২০২৬ সালে ঝিনাইদহ জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় মোট প্রার্থী ছিল ১২৮৯৩ জন। কিন্তু প্রথম দিনে পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিল ১৬০ জন ছাত্রী ও ৪৮ জন ছাত্র।অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে অংশ নিয়েছে ২ হাজার ৪৩৯ জন পরীক্ষার্থী।ভোকেশনাল শাখায় ১ হাজার ১১৬ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১ হাজার ৯৬ জন।ঝিনাইদহ ৬ উপজেলার এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বড় অংশকেই বিয়ে দিয়েছেন তাদের অভিভাবকরা।স্থানীয় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে মেয়েদের বিয়েদিতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন।একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বলছে যেসব ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেনা তাদের বিয়ে হয়ে গেছে, যাদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।যদিও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়সের বিষয়ে উপযোগী নয়। আর সে কারণেই এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের চোখ এড়াতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকে।
ঝিনাইদহ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) নারায়ন হন্দ্র পাল জানান, চলতি বছর জেলায় মোট এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৮১ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৬ হাজার ২২০ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৩৬১ জন।এসএসসিতে অনুপস্থিতির হার প্রায় ২%, দাখিলে ৫% ও ভোকেশনালে ২% অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, অনুপস্থিত ছাত্রীরা মূলত গ্রামীন এলাকার ও বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় গুলোতে। ফরম পূরণ করেও কেন তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাই নিশ্চিত করতে পারবেন।রুরাল ডেভেলোপমেন্টের নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালে একই ধরনের ঘটনায় তদন্ত করে বাল্যবিয়ের প্রমান পাওয়া গিয়েছিল। এবারও অনেক ছাত্রী বিয়ের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে গোপনে ও স্থান পরিবর্তন করে বিয়ে দেওয়ায় সব তথ্য জানা সম্ভব হয় না। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফার রহমান জানান, গত বছর ২১৩ জন অনুপস্থিত ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি তদন্তে নিশ্চিত হয়েছিল। এবছরও একই কারণ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।