নীলফামারীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন নীলকুঠি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একসময় যেখানে নীল চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জমজমাট কার্যক্রম চলত, সেই স্থাপনাটি এখন অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় নির্মিত এই নীলকুঠি ছিল নীল উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নীল চাষ করিয়ে তা প্রক্রিয়াজাত করা হতো এখানে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্থাপনাটি শুধু একটি কারখানা নয়, বরং উপমহাদেশের ঔপনিবেশিক শোষণের একটি জীবন্ত সাক্ষী।
বর্তমানে নীলকুঠির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের অনেক অংশ ভেঙে পড়েছে এবং চারপাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাবে এটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,এই জায়গাটা আমাদের ইতিহাসের অংশ। কিন্তু এটি রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এলাকাবাসীরও উপকার হতো।
এদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে অচিরেই এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি হারিয়ে যেতে পারে।
পর্যটন সম্ভাবনার দিক থেকেও নীলকুঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে। সঠিক উদ্যোগ নিলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিহাস সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। এমন মনে করছেন সচেতন মহল।
নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম বলেন,এটি নীলফামারীর ঐতিহ্য। বিরল এক ইতিহাস বহন করে নীলকুঠি। তাই এটিকে সংস্কার করে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কেমিস্ট্রিস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালক ও সাপ্তাহিক নীলচোখ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হাকীম মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ বলেন,নীলকুঠি নীলফামারীর অতীত ঐতিহ্য ইতিহাস বহন করে।
নতুন প্রজন্মকে ওই ইতিহাস জানাতে নীলকুঠিকে ঠিকে রাখাতে হবে। আর এজন্য ভুমিকা নিতে হবে সরকারকে।