সৈয়দপুরে নরসুন্দরদের পেশায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কমেছে আয়

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
সৈয়দপুরে নরসুন্দরদের পেশায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কমেছে আয়

এক সময় গ্রামবাংলার নরসুন্দর মানেই ছিল কাঁধে বাক্স, হাতে ক্ষুর, আর গাছতলায় বসে চুল-দাড়ি কাটা। আর এখন আধুনিক সাজে সজ্জিত এয়ারকন্ডিশনড সেলুন, স্টাইলিশ হেয়ার কাট, ফেসিয়াল, এমনকি স্কিন ট্রিটমেন্টও। সময়ের সাথে বদলে গেছে নরসুন্দর পেশার চেহারা। এখন হাটু গেড়ে বসে রাস্তার ধারে,হাটের নির্দিষ্ট কোন স্থানে বা পথের মোড়ে চুল কাটার দৃশ্য তেমন একটা চোখে পড়ে না।  একসময় নরসুন্দররা শুধু চুল-দাড়ি কাটতেন না, তারা ছিলেন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহকও। বিয়ে, খৎনা বা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের ডাক পড়ত। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তারা মানুষের সাথে গড়ে তুলতেন গভীর সম্পর্ক।

নরসুন্দর আবেদ ইসলাম মমিন জানান,এখন তাদের দিন চলে অনেক হিসেব করে। আগের মত তার দোকানে কাজ নেই। আগে যেখানে আয় হত ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা আজ সেখানে আয় হয় ৩শ থেকে ৫শ টাকা। বর্তমান বাজার মুল্যে তা দিয়ে সংসার চলে না। দোকান ভাড়া,বিদ্যুৎ বিল, পৌরসভার কর সব মিলে চলে যায় আয়ের বড় একটা অংশ। নরসুন্দর সাইফুল ইসলাম জানান,আগে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতাম। একটা বাক্স ছিল, তার মধ্যেই সব যন্ত্রপাতি। মানুষ আমাদের খুব সম্মান দিত।

কিন্তু সময় বদলেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে এই পেশাও। এখনকার সেলুনে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত কর্মী, আর গ্রাহকদের জন্য নানা ধরনের সেবা। এখন শুধু চুল কাটা না, আমরা স্টাইলিং, কালার, স্কিন কেয়ার সবকিছুই করি। ট্রেনিং নিয়ে কাজ করতে হয়। চুল কাটতে আসা সাংবাদিক আল আমিন বলেন,আগে যেখানে শুধু চুল কাটা হতো, এখন এখানে এসে পুরো একটা গ্রুমিং এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যায়। সেকালের সেই সরলতা আর একালের আধুনিকতার মাঝে রয়েছে সময়ের দীর্ঘ পথচলা। তবে পেশার মূল উদ্দেশ্য একটাই মানুষকে পরিপাটি ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা। নরসুন্দরদের এই পরিবর্তন যেন আমাদের সমাজেরই এক প্রতিচ্ছবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে