কুমিল্লায় বিএনপির সভাপতিকে আটক করে ১২ ঘন্টা পর মুক্তি

এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : | প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
কুমিল্লায় বিএনপির সভাপতিকে আটক করে ১২ ঘন্টা পর মুক্তি

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করে ১২ ঘন্টা পর মুক্তি দিয়েছে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শহরের শাসনগাছা বাস টার্মিনাল সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দিনভর রেজাউল কাইয়ুমকে ছাড়া হয়নি এবং তাকে গ্রেপ্তারও দেখানো হয়নি। সারাদিন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। তবে রাত ১১টার দিকে সাংবাদিকদের অনুরোধে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শরীফ ইবনে আলম বলেন, শাসনগাছার কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে রেজাউল কাইয়ুমকে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর প্রমাণ পাওয়া গেলে সকালে আদালতে পাঠানো হবে।

এ বক্তব্যের ঘন্টাখানেক পর রাত ১২ টায় তাকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে, রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে শাসনগাছা টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-সহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান ফটক ঘেরাও করে স্লোগান দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শাসনগাছা বাস টার্মিনালে যানবাহন থেকে ইজারার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগসহ অন্যান্য বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। কেন তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন। এখনো তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। কিছু লোকজন থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন, আমরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছি।

দুপুর আড়াইটার পর রেজাউল কাইয়ুমের সঙ্গে দেখা করতে থানায় আসেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ছুটিসহ আরও কয়েকজন নেতা। এ সময় শফিউল আলম রায়হান বলেন, কেন তাকে থানায় আনা হয়েছে তা আমরা জানি না; এ বিষয়ে পুলিশই বলতে পারবে।

বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ছুটি বলেন, তিনি জেলা পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো ইজারাদার নন। হয়তো কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তারপরও আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগটি ছিল ভিত্তিহীন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে