কালীগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, পথচারীরদের দুর্ভোগ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
কালীগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, পথচারীরদের দুর্ভোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার অধিকাংশ স্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে পৌরসভার পাশেই এমন এক ঘটনার শিকার হন অমিত মুখার্জি নামে এক পথচারী।সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রাস্তার অপর প্রান্তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অমিত মুখার্জি। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি পরিবহন গাড়ি রাস্তার জমে থাকা কাদা-পানি ছিটিয়ে দিলে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। এভাবে প্রতিদিন পথচারিরা কাদা পারিতে ভিজে যাচ্ছে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।কালীগঞ্জের পৌরবাসীকে কাদা,পানি পাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে  শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষ। ভুক্তভোগী পৌরবাসীর অভিযোগ, পৌরসভা প্রথম শ্রেনীতে উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি এতটুকু। দীর্ঘ বছর ধরে ড্রেন অব্যবস্থাপনার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই পৌরসভার প্রতিটি সড়কগুলি তালয়ে যায়। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি নিষ্কাশিত না হতে পারায় কয়েকদিনের জমে থাকা পানিতে আবর্জনা মিশে দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়। ফলে পানিবাহিত চর্মরোগের কারণ হয়ে দাড়ায় সড়কের এ জলাবদ্ধতা।  পৌরসভার অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী অমিত মুখার্জি পেশায় একজন ব্যবসায়ি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কের পাশেই সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। অধিকাংশ ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যা গুলো দীর্ঘদিন চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।কালীগঞ্জ পৌরবাসীর দাবি, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা কা্িক্ষত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান,পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা রয়েছে।বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়। কালীগঞ্জ পৌরসভাটি ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬.১১ কিলোমিটার নিয়ে পৌরসভাটি।যাহার আয়তন ১৫.৮৩ বর্গ কিঃ মিঃ। কালীগঞ্জ পৌরসভা শহরের মধ্যে দিয়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়ক এবং মেহেরপুর খুলনা মহাসড়ক বিদ্যমান।৯টি ওয়ার্ডের সম্বন্বয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত।পৌরসভার নিজস্ব সম্পত্তি আছে ১ একর ৪ শতক। কালীগঞ্জ কোটচাদপুর মহাসড়কের পাশে কালীগঞ্জ পৌরসভা অফিস ভবন অবস্থিত।পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা।এই বিপুল জনসংখ্যক অধিবাসীর পৌর শহরে রয়েছে ড্রেন যার ৯৫ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পৌর শহরের অধিকাংশ আবাসিক এলাকা।পৌরসভা গঠনের পর প্রায় ৩৬ বছরে শহরের গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহমান খালের ভরাট ও দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।ফলে পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

কালীগঞ্জ পৌরসভাট প্রথম শ্রেনীর হলে ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় প্রতিটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা।জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কোনো বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে পৌর কর্তৃপক্ষ।তাই দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না পৌরবাসীর।সামান্যবর্ষণেশহরেরমধুগঞ্জশহর,কাঠালবাগানএলাকা,আবাসিকএলাকা,আড়পাড়া,নদীপাড়া,পরামানিকপাড়া,কলেজপাড়া,মোবারকআলীমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনেসহ প্রতিটি ওয়াডে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে।কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার রয়েছে তিনটি কলেজ,তিনটি বালিকা বিদ্যালয়,১টি সিনিয়র মাদ্রাসা, ২টি দাখিল মাদ্রাসা, কওয়ামী মাদ্রাসা ২টি, এফতেদায়ী মাদ্রাসা, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি,কিন্ডার গার্ডের অন্তত ১২টি,পৌরপাঠাগার এবং বে-সরকারী পাঠাগার, অডিটোরিমায় ২টি একটি পৌরসভার নিজস্ব, পৌরসভার হাটবাজার ২টি এবং বাস টার্মিনাল ১টি,বাসষ্ট্যান্ড ১টি।সরকারী হাসপাতাল ১টি,বে-সরকারী ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে একাধিক,দেশের বৃহত্তম মোবারকগঞ্জ চিনিকল,মোবারকগঞ্জ রেলষ্টেশন,শ্বশান ঘাট ২টি, কবর স্থান ২টি, মন্দির ১৫টি, মসজিদ ৫৪টি। জংলীশাহ পীরের দরগা রয়েছে।খুলনা বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বাণিজ্যিক শহর কালীগঞ্জ। ১৮৮৩ সালে এটি থানা সদর দপ্তর হিসেবে ছিল। ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ কালীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে ক শ্রেনীর পৌরসভা হিসাবে মানোন্নয়ন করা হয়। পৌরসভায় মোট ৯টি ওয়ার্ড এবং ১৪টি মৌজা আছে। এ সব বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বরত প্রশাসককে জনবসতিদের সার্বিক সুবিধা সমাধানের বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে