আদালতের রায়ে শপথের পথে আসলাম চৌধুরী

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) :
| আপডেট: ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
আদালতের রায়ে শপথের পথে আসলাম চৌধুরী

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতার পর অবশেষে স্বস্তির আবহ ফিরছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। আজ বুধবার (১৩ মে) আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মধ্য দিয়ে আলহাজ্ব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ 'র সরকারি গ্যাজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ কার্যত উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। সকাল থেকেই সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল চাপা উত্তেজনা। আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমর্থকদের অনেকে এটিকে জনগণের ভোটের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায় ইতিবাচক হলে দ্রুত সরকারি গ্যাজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যে কোনো সময় শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ খবরে সীতাকুণ্ডজুড়ে নতুন রাজনৈতিক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ড কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবে নানা সংকটে পিছিয়ে পড়ছে। দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ জনপদে শিল্পকারখানার প্রসারের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবেশ দূষণ, সুপেয় পানির সংকট ও নাগরিক দুর্ভোগ। একই সঙ্গে কৃষিজমি দখল, পাহাড় কাটা, উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন নিয়ে মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। সচেতন মহল বলছে, শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সীতাকুণ্ড এখনও অবকাঠামোগতভাবে অনেক পিছিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, পর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থার অভাব, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে পর্যটন খাত নিয়েও নতুন করে আশার কথা শোনা যাচ্ছে। চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ও ইকোপার্ককে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে সে সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, সংসদে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে এসব খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তরুণদের প্রত্যাশাও কম নয়। তারা চান কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হোক। বিশেষ করে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম, যুব উন্নয়নকেন্দ্র ও আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণ শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশারও প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর শপথের মধ্য দিয়ে এলাকায় উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নতুন গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে জাতীয় সংসদে আরও জোরালো আলোচনা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে