সাম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অভিযোগে ভাইরাল হয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক হাসান। তার সাথে স্থানীয় এমপি’র অভিযোগের তীরের কথোপকথনের জেরে তিনি ভাইরাল হয়েছেন। ১২ মে মঙ্গলবার বিকালের পর হতে তিনি ভাইরাল হতে থাকেন। এরআগে সকাল ১০টায় সাব রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
এসময় তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীসহ অন্যান্যরা ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কার্যালয়ে নিজ চেয়ারে বসে রয়েছেন সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক হাসান। পরে এমপি সে কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে তিনি সালাম বিনিময় শেষে বসতে বলেন। যদিও এমপি চেয়ারে বসতে অপারগতা দেখান।
সাংসদ মানিক ওই সময় সাব রেজিষ্ট্রার রাজ্জাক কে প্রশ্ন করেন-রেজিষ্ট্রি বন্ধ করে রুমে কি করেন? কয়টায় অফিসে আসছেন? আপনার সম্পর্কে ত পাহাড় সমান অভিযোগ! যারা দলিল করতে আসে তাদের সবার থেকেই বার্তি টাকা দাবী করেন। দলিল লেখকরা আপনাকে খুশি না করলে আপনি রেজিষ্ট্রির কাজ করেন না। দলিল ঠিক থাকলে বার্তি টাকা দিতে হবে কেনো? দলিল সঠিক না হলে আপনি রেজিষ্ট্রি করবেন না। সরকারি বিধি মোতাবেক না হলে রেজিষ্ট্রি হবে না। কিন্তু আপনি সবার থেকেই উৎকোচ ঘুষের আশায় বসে থাকেন ইত্যাদী। এসময় প্রতি উত্তরে রাজ্জাক বলেন, ৯ টায় অফিসে এসেছেন। এখনো দলিল লেখক আসেনি বলে তিনি কক্ষে বসে আছেন। ত্রুটিপূর্ণ থাকায় অনেক দলিলের কাজ আটকে আছে। ঘুষের বিষয়ে তিনি স্পেসিফিক অভিযোগ প্রত্যাশা করেন। প্রয়োজনে উর্ধ্বতনকে সেসব অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করেন।
এমপি মানিক বলেন, আপনি ত আমাদের নেতাকর্মীদের থেকেই উৎকোচ চেয়েছেন। তাই অভিযোগ ত সরাসরি আপনার বিরুদ্ধেই। আমার ত কয়েক মাস পর পরই দলিলের কাজ থাকে। আমরাই যদি ভুক্তভোগী হই। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কি? আমার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা। তাই অভিযোগ আমার কাছে জমা হচ্ছে। সরকারি বেতনে চাকরি করার বাইরে অন্য চিন্তা থাকলে এখানে চাকরি করতে পারবেন না। বিধির বাইরে যদি দলীয় নেতাকর্মী কেউ দলিল করতে চাপ দেয় তাহলে সরাসরি আমাকে জানাবেন বা ডিসি এসপি কে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নিবো। এসময় এমপি মানিক সাব রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারীদেরও ঘুষ না নিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের সতর্ক করতে দেখা যায়।