সমস্যায় জর্জরিত মেলান্দহ সরকারি হাসপাতাল, অচল ৩ এম্বুলেন্স

এফএনএস (শাহ জামাল; মেলান্দহ, জামালপুর) :
| আপডেট: ১৪ মে, ২০২৬, ১১:৫০ এএম | প্রকাশ: ১৪ মে, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
সমস্যায় জর্জরিত মেলান্দহ সরকারি হাসপাতাল, অচল ৩ এম্বুলেন্স

জামালপুরের মেলান্দহ ৫০ শয্যার হাসপাতাল সমস্যায় জর্জরিত। সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতা চিকিৎসকদের পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। কাগজে কলমে ৪টি এম্বুলেন্স থাকলেও, সকচল আছে ১টি। বাকি ৩টিই প্রায় ১২ যুগ ধরে অকেজো। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে এম্বুলেন্সগুলো মেরামত করা হয়ে ছিল। করোনাকালে হাল্কা মেরামত করে চালানোর পর গাড়ি ৩টি বিকল। মাত্র ১টি সচল এম্বুলেন্স দিয়ে রোগির সেবা দিতে হিমশিম খাইতে হচ্ছে। দ্রুত মেরামত না করায় কিছু যন্ত্রাংশ ড্যামেজ হয়েছে। সর্বশেষ ৫ আগস্টের অরাজকতার সুযোগে গাড়ির অনেক মুল্যবান পার্টস চুরি হয়। 

১ বছর যাবৎ আল্ট্রাসনো গ্রাম মেশিন এবং ২ বছর যাবৎ জেনারেটর-সোলার নষ্ট। এখনো ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই। এনালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও; ফিল্ম সংকটের মধ্যেই জোড়াতালি দিয়ে দৈনিক ১০টির বেশি ফিল্ম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে রোগিদের ৫শ’ টাকার স্থলে ২৫শ’ টাকায় বাহির থেকে এক্সরে করানো হচ্ছে। ইসিজিতে ৪ জনের স্থলে আছে ১ জন। তাও আবার পুরুষ। এতে নারী রোগিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। 

অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এখানে মাসে সর্বোচ্চ ১৪/১৫ হাজার রোগির সেবা প্রদানের বিষয়টি জেলা সমন্বয় মিটিংএ আলোচনায় আসে। এর আগে মা ও শিশুর সেবায় সফলতার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে। লোকবল থাকলে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা এবং সেবার মান আরো উন্নতি হতো। টিকিট কাউন্টারে লোকবল নেই। ইউনাইটেড ট্রাস্টের লোক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। 

প্রধান সহকারি, ওয়ার্ড বয়, ডাক্তার এটেন্ডেন্ট, ওটি বয়, ক্লিনার, নিরাপত্ত্বাকর্মী নেই। বিদ্যুৎ এবং তেল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পুরনো সোলারও প্রায় অচল। তেল সংকটে গাড়িও চলছে না। টিকা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ড্রাইভারদের ১৭ মাসের এবং টিকা সরবরাহকারী পোর্টারদের ৬ মাস যাৎ বেতন বন্ধ। 

পরিত্যাক্ত এম্বুলেন্স পরিদর্শন টিম বলেছেন, পরিত্যাক্ত এম্বুলেন্স মেরামত করলে ৩/৪ বছর চলতে পারে। এতে ব্যয় হ’তে পারে ৪ লক্ষাধিক টাকা। কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে গাড়ি মেরামত কিংবা নিলামে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিব জানিয়েছেন, এগুলোর বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলে অনেকবার লেখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অনেক সংকট পূরণ করা হচ্ছে। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের চলতে হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে