দুর্গাপুরের খামারিদের ব্যস্ততা লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা

এফএনএস (এস.এম রফিকুল ইসলাম; দুর্গাপুর, নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ১৪ মে, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
দুর্গাপুরের খামারিদের ব্যস্ততা লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা

কুরবানির ঈদ’কে সামনে রেখে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ছোট-বড় গরুর খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। সারা বছর যত্নে লালন-পালন করা গরু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন তারা। ঈদ উপলক্ষে খামারগুলোতে চলছে বাড়তি পরিচর্যা, উন্নত খাবার সরবরাহ ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের নাওদারা গ্রামের খামারি মোঃ  হযরত আলী গড়েতুলেছেন ‘মুবারাকাহ্ এগ্রো’ নামের একটি খামার। ২০২২ সালে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে খামারটি সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এবার কুরবানির ঈদ’কে সামনে রেখে তিনি প্রস্তুত করেছেন ২৬টি গরু। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে ৯টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে আরও ১৭টি গরু।

খামারটিতে প্রতিটি গরু’কে বাজার উপযোগী করে তুলতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ খাবার। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও রাখা হচ্ছে বাড়তি নজরদারি। ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশাতেই এই বাড়তি যত্ন নেয়ার উদ্দ্যোগ খামারির।

খামারি হযরত আলী জানান, তার খামারে অস্ট্রেলিয়ান, পঙ্করাজ, ব্রাহামা, শাহীওয়াল ও নেপালি জাতের গরু রয়েছে। গরু জাত ও আকারভেদে প্রতিটির দাম তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৬০ থেকে লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা রয়েছে তার। আশানুরূপ দাম পেলে ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অপরদিকে সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কুরবানির ঈদ’কে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগি।

খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাবো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, খামারের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও। তাদের প্রত্যাশা, এবার কুরবানির বাজারে গরুর ন্যায্য মূল্য পাবেন খামারিরা। স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুরবানির ঈদ’কে সামনে রেখে দুর্গাপুর উপজেলায় ৭ শতাধিক খামারির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু। এছাড়াও প্রায় ৪ হাজার ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও জোরালো নজরদারি রাখা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে