ফারাক্কার প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে, দাবি রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ফারাক্কার প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে, দাবি রিজভীর

ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই, এর নেতিবাচক প্রভাব ভারতের ভেতরেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে পুরো অঞ্চল পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত “ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফারাক্কা ইস্যু শুধু একটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিষয় নয়, এটি পরিবেশ, নদী ও মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।”

নতুন প্রজন্মের কাছে ফারাক্কা লংমার্চের ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন বিএনপির এই নেতা। তার ভাষায়, “ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে বারবার স্মরণে রাখতে হবে, না হলে নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস ভুলে যাবে।”

আলোচনা সভায় রিজভী দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞও ফারাক্কা ব্যারাজের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ভারতের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য ও পরিবেশ আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটকরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারাও শুরু থেকেই সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ফারাক্কার কারণে ভারতের বিভিন্ন এলাকাতেও অসময়ে বন্যা, নদীভাঙন ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে। “শুধু একটি বন্দরের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি একটি দেশের নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করা হয়, তাহলে তা অবশ্যই প্রতিবেশী সম্পর্কের প্রশ্ন তোলে,” বলেন রিজভী।

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের পানি সংকট সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং চুক্তি নবায়নের মধ্য দিয়েই এ সমস্যার একটি সমাধান সম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করা যাবে না। তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সভায় পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। তিনি বলেন, “এবার কয়েক বছরের জন্য নয়, অনন্তকালের জন্য চুক্তি করতে হবে।”

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই এবারের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে