লক্ষ্ণীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
লক্ষ্ণীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭

লক্ষ্ণীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে মাছঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রাব্বি হোসেন (২২), ফরহাদ হোসেন (২৭), সুমন হোসেন (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (৩২)কে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এর আগে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের সাজু মোল্লার মাছঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক শফি সরদার এবং একই ওয়ার্ডের বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শফি সরদার উত্তর বংশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মহিউদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে ফারুক সরদার একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি এবং আবুল কালাম আজাদ (বলি) উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে মাছঘাট দখল নিয়ে উভয় পক্ষ শক্তি প্রদর্শন ও মহড়া দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা শফি উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ফারুক সরদার, যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ (বলি) ও তারেক সরদারের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোক মাছঘাট দখলের উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রাব্বি ও ফরহাদ হোসেনসহ অন্তত আটজন আহত হন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ফারুক সরদার বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমি ও কয়েকজন মিলে যৌথভাবে এই মাছঘাট পরিচালনা করে আসছি। আজকের ঘটনায় তারা নিজেদের মধ্যেই প্রথমে মারামারি করেছে। পরে আমাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের পক্ষের দেলোয়ার হোসেন ও সুমন আহত হয়েছেন।” এদিকে উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (বলি) বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে। বরং আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি।” রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন,ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। 

জানাগেছে, এর আগেও একই উপজেলার উত্তর চরবংশী এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ মালেক খাঁ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্পেন প্রবাসী সাইজউদ্দিন দেওয়ান ও জসিম উদ্দিন বেপারী নিহত হন।  সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মাছঘাটের দখলকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে