মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ: যুবককে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ১৮ মে, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ: যুবককে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পন্ডিতের ছেলে নোমান পন্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্ণীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫), আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনেরা। মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরধরে এই হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এঘটনায় নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করা হয়েছে।

নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, রোববার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা দুজন আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে নোমান পন্ডিতের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইল ফোনে জানান।

পরবর্তীতে আসিফ হাওলাদার লোকজন নিয়ে নোমান পন্ডিতের বাড়ির পাশ থেকে তার ভাইকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আসিফ হাওলাদার আরও বলেন, তার ভাই আল আমিন এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে আল আমিনের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যান্যদের কাছে টাকা ফেরৎ চান। পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিনকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আজিজুল সরদার, নোমান পন্ডিত, শাহাবুদ্দিন ঘরামী, কাওসার আকন এলাকায় ইয়াবা ও গাজার ব্যবসা করেন। মোটরসাইকেল চালক হিসেবে আল আমিন হাওলাদারকে তারা ব্যবহার করতেন। কিছুদিন আগে আল আমিন হাওলাদার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে টাকার হিসাব এবং পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান। 

আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাড়ি পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেন। তারা ৩ জন বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। এদের মধ্যে শাহাবুদ্দিন ঘরামীর নামে বিভিন্ন থানায় অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান বলেন, নিহত যুবককের ঘাড়ের বামপাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীর আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। 

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, যুবককে হত্যার ঘটনায় ৩জনকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে