চরম নির্যাতন আর অপমান সহ্য করেও স্বামীর সংসার ত্যাগে বাধ্য হওয়া অদম্য নারী রোজিনা আক্তার এখন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কাছে এক বিশেষ অনুপ্রেরনার নাম।
দাকোপের গুনারী সরকারী ওয়াপদা বাঁধ এলাকার বাসিন্দা রোজিনা আক্তার। এক সন্তানের জননী রোজিনা ২০১৫ সালে স্বামীর সংসার ত্যাগে বাধ্য হয়। ছোট্র শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবনের পথ চলা। এস এস সি পাশ রোজিনা শুরুতে প্রাইভেট পড়িয়ে মা মেয়ের সংসার চালাতে থাকেন। ২০২১ সালে বেসরকারী সংস্থা সুশীলনের বাস্তবায়নে কইকার অর্থায়নে কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইজের কারিগরি সহযোগীতায় ইআর সিসি ফেইজ-১ প্রকল্প হতে ১৩ হাজার টাকা পুঁজি পেয়ে শুরু করেন গলদা চিংড়ীর চাষ। ২৩ সালে সেই পুঁজির মাছ বিক্রি করে পায় ৫৩ হাজার টাকা। সেই টাকার সাথে আরো ১০ হাজার টাকা যোগ করে নিজ এলাকায় ৩ বিঘা ধানের জমি বন্ধক রাখে। ২০২৪ সালে রোজিনা আক্তার বেসরকারী সংস্থা জেজেএস’র ৩ বছর মেয়াদী ইআর সিসি-২ প্রকল্পের সদস্য হন। সেখান থেকে পুঁজি হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেয়ে অব্যহত রাখেন পুকুরে গলদা চিংড়ী চাষ। সেই ব্যবসার লাভের অংশ দিয়ে আর ৫ বিঘা ধানের জমি লীজ গ্রহন করেন। এভাবে ৮ বিঘা জমির ফসল আসে রোজিনার ঘরে। বদলে যায় রোজিনার এক সময়ের অভাবি অনিশ্চয়তার জীবন। নিজের কর্মদক্ষতায় তিনি এখন ওই প্রকল্পের ২৯ সদস্যের তেতুল দলের সভানেত্রী। আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে তার সামাজিক মর্যাদা। এক সময়ের স্বামী পরিত্যাক্তা রোজিনা এখন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কাছে অনুপ্রেরনার নাম। রোজিনা কেবল নিজে সফল হয়েছেন তেমনটা নয়, সরকারী বেসরকারী প্রশিক্ষন আর ইআর সিসি প্রকল্পের অর্থ সহায়তায় তাঁর সমিতির সদস্য সুপ্রিয়া মন্ডল, কল্পনা বৈদ্য, বিপুলা মন্ডলরা ভিন্ন ভিন্ন পেশার মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তারাও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে হয়ে উঠেছেন অনুকরনীয়। অতীতের অসহায়ত্ব আর বর্তমান অবস্থার কথা বর্ননাকালে রোজিনা আক্তার অশ্রু সজল চোখে বলেন, এক সময় যারা অবহেলা আর অসম্মানের দৃষ্টিতে দেখত তারা এখন বদলে যাওয়া রোজিনাকে সমাজের আর দশজন মানুষের মত সম্মানের চোখে দেখে এটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। তিনি পরিস্থিতির কারনে হতাশ না হয়ে পরিশ্রম করে কর্মের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলে ভাগ্যবিড়ম্বিত নারী সমাজের প্রতি আহবান জানান।