র‌্যাবের জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এফএনএস প্রতিবেদক:
| আপডেট: ১৮ মে, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম | প্রকাশ: ১৮ মে, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
র‌্যাবের জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি, সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার দুপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বললেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনের আওতায় একটি এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই র‌্যাবের জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স থাকবে, যারা নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

নতুন বাহিনীটি র‌্যাবের বর্তমান কাঠামোর সংস্কার হতে পারে, আবার নতুন নামেও গঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার এখনো চিন্তাভাবনা করছে-উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র‍্যাব তার সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত করবে এবং আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যেই আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কি না বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করব কি না, সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়। সরকার বিবেচনা করছে। তবে এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা আমরা এনশিওর করবো।

তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে, রেসপনসিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হবে সেই একই আইনে। সেভাবেই আমরা আগামীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবো এবং জননিরাপত্তা, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা জানি যে র‍্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না ফ্যাসিবাদী শাসনামলে, যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি-সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কয়েকজন কর্মকর্তার কাজের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে, সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে, সেই সব অফিসারের অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ, প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। আইন আছে প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে, কর্মকর্তারা কীভাবে সেই আইনমাফিক পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অথরিটি থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিও থাকবে। একই সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করা হবে আইনের মাধ্যমে। বর্তমানে র‌্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি ধারার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে এডহক ভিত্তিতে চলছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, একটি বাহিনী এভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। তাই নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীর দায়িত্ব, ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হবে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কয়েকজন কর্মকর্তার দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে