ভাল বাজার দর পাওয়ার আশায় গরু-মহিষকে পাম বড়ি বা বিকল্প পদ্ধতিতে কৃত্রিমভাবে মোটা তাজাকরণে এবং অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বছরজুড়ে স্থানীয় হাট-বাজার থেকেই কেনা ভূষি, খৈল, ঘাস ও খড় গবাদি পশুর স্বাভাবিক খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও কুরবানির ঈদের মাস খানেক আগে গ্রামের গৃহস্থরা গরুর খাবারের রুচি বাড়ানোর নাম করে ব্যবহার শুরু করেন নানা ওষুধ। এ সময়টাতে বিভিন্ন ফার্মেসিতেও গবাদি পশুর ওষুধ বিক্রির মাত্রা বেড়ে যায়। চাহিদা বুঝে বেশ কয়েকটি ফার্মেসি এ ধরনের ট্যাবলেট ও ইনজেকশন জোগান বাড়ায়। চোরাইপথে আসা নিষিদ্ধ ‘পাম বড়ি’ খ্যাত মিয়ানমারের এক প্রকার ট্যাবলেট গরু-মহিষকে খাওয়ায়ে মোটাতাজা করে হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এসব আমদানী নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর ট্যাবলেট অনায়াশে বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসীতে পশু মোটাতাজা করণের পাম ট্যাবলেট নির্বিঘ্নে বেচা-বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে এসব পাম্প ট্যাবলেট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ট্যাবলেট কিনতে আসা কয়েকজন পশু ব্যবসায়ী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা বিভিন্ন রঙের ডেক্সামেথাসোন, ডেক্সাভেট ও বি-৫০ মিশিয়ে পাম্প ট্যাবলেট খাওয়ালে গরু-মহিষ দ্রুত মোটা হয়। মোটা গরু ও মহিষ কোরবানির হাটে তুললে চড়া দামে বিক্রি হবে। তাঁরা আরও বলেন, গ্রামে আরও অনেক গরু-মহিষের ব্যবসায়ীরা এসব ট্যাবলেট নিয়ে তাদের গরু-মহিষকে খাওয়ানো পর মোটা হতে শুরু করেছে। তাই আমরা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। বেশি লাভের জন্য পশুকে এই পাম ট্যাবলেট খাওয়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, এই ট্যাবলেট নিষিদ্ধ কি না, তা তাঁদের জানা নেই। প্রতিদিন মিয়ানমারের নাগরিকেরা দোকানে এসে এ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা এসব ট্যাবলেট (একশ পিস) এক-দেড় হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকজন পশু ব্যবসায়ী বলেন, কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য ছয় মাস আগে দুইটি গরু পালন করছেন। কিন্তু বাজার দর না পাওয়ার আশায় তিনিও ২০-২৫ দিন ধরে ওই দুইটি গরুকে পাম ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছেন। এতে গরুগুলো দ্রুত মোটা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এনামুল হক জানান, এসব পাম ট্যাবলেট বা বিকল্প পদ্ধতি খাওয়ানোর ফলে পশুর যকৃৎ ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং পশুর শরীরে পানি জমে যায় এ কারণে শোষিত হয়ে পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। ফলে গরুকে মোটা দেখায়। আর এসব বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে গিয়ে মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ে তারা।এতে করে পশুকে সাময়িক মোটাতাজা দেখালেও ট্যাবলেটের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় পশুগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এসব ওষুধ খাওয়ানো পশুর মাংস মানব দেহের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরণের পশুর মাংস খেলে মানুষের শরীরে মারাত্নক বিরুপ প্রভাব ফেলে।