বাঘায় পদ্মার চরে ডাকাতের গুলিতে গুলিবিদ্ধ দুই যুবক, নিখোঁজ ১

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
বাঘায় পদ্মার চরে ডাকাতের গুলিতে গুলিবিদ্ধ দুই যুবক, নিখোঁজ ১

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালি চরে ডাকাতের গুলিতে স্বপন বেপারী (৪০) ও জিয়াউল হক (৩৫) নামের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) গভীর রাতে কালিদাসখালি চরে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাস্থলে রক্তপাতের আলামত থাকলেও গুলিবিদ্ধ স্বপন বেপারীর সন্ধান মিলেনি।

গুলিবিদ্ধ স্বপন বেপারী কালিদাসখালি চরের সিদ্দিক বেপারীর ছেলে। আহত জিয়াউল হক নিচপলাশী চরের শুকুর আলীর ছেলে। তােিক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জিয়াউল হক ওই সময় পদ্মা নদী থেকে মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরছিলো। তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে  গেলে তিনি ডাকাতের গুলিতে আহত হন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে গেছে, সোমবার (১৮ মে) রাত ১২ টার দিকে কালিদাসখালি চরে সশস্ত্র একদল ডাকাত ইঞ্জিত চালিত নৌকা যোগে কালিদাসখালি চরে আসছিল। এই সময় স্বপন নামের এক ব্যক্তি ডাকাতদের লক্ষ্য করে টর্চলাইটের আলো মারে। এতে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপনকে গুলি ছোড়ে। গুলিতে স্বপন আহত হন। তবে আহত স্বপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে পুলিশ। এ সময় পুলিশ জানায় কিছু রক্তের আলামত পাওয়া গেছে।

স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, রাত ১২টার দিকে দুইটা ট্রলারে ১৫ থেকে ১৬ জন লোক আসেন। এ সময় তারা এলোপাথারি গুলি ছুটতে থাকে। গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। এ সময় তারা বাড়ির সামনে আমার ছেলে স্বপনকে ধরে ফেলে। তাকেও গালাগালির এক পর্যায়ে গুলি করে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে বালুরঘাট রয়েছে। বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় ডাকাত দলের হামলার ঘটনা ঘটে। গতরাতে আসলে কি ঘটনা ঘটেছিল, সেটি এখনো ভালোভাবে জানা যায়নি। তবে স্বপন এবং জিয়াউল নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। জিয়াউলকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে স্বপনকে পাওয়া যায়নি।

স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারীর বলেন, গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে, এ বিষয়ে বিছুই জানিনা। ঘটনাস্থলে পুলিশের লোকজন আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর আহত জিয়াউলকে স্বজনরা  হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এটা এলাকার মানুষ দেখেছে। ছেলেকে উদ্ধারের জোর দাবি জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে রক্তপাতের আলামত দেখতে পেয়ছি। নিখোঁজ স্বপনকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে