বাসায় ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় ছেলেসহ তার বখাটে বন্ধুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক মা। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাদীর ছেলে মাইদুল ইসলাম সুনাম (১৬) ও তার দুই সহযোগী বখাটে বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্য দুই সহযোগীরা হলো বরিশাল নগরীর নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা সঞ্জিব দাসের ছেলে চয়ন দাস (১৭) ও জাহিদুল ইসলাম হাসানের ছেলে ইমন ইসলাম (১৮)। মামলার অন্য এজাহারভুক্ত নামধারী আসামি সঞ্জিব দাসের ছেলে চন্দন দাসসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই গোলাম মো. নাসিম হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই মামলার নামধারী এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মর্জিনা আকতার মিরু বরিশাল নগরীর নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলে মাইদুল ইসলাম সুনাম বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। মামলার এজাহার নামীয় আসামি একই এলাকার বাসিন্দা চয়ন দাস, চন্দন দাস, ইমন ইসলামসহ অজ্ঞাত নামধারী আসামিরা বখাটে ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত।
বাদীর ছেলে (মামলার প্রধান আসামি) তাদের বুদ্ধি পরামর্শে বাসা থেকে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা নিয়ে যায় এবং সবাই মিলে মাদক সেবন করে। বাদী ও তার স্বামী হাফিজুর রহমান ছেলেকে টাকা দিতে না চাইলে, ছেলেসহ মামলার অন্য আসামিরা ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় মাদক সেবনের জন্য টাকা চাইলে তা দিতে অপারগতা জানালে বাদীর ছেলেসহ মামলার অন্য আসামিরা গত ১৭ মে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাসায় লোহার রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে। এসময় তারা বাদী ও তার স্বামীর কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা দাবি করে কিন্তু টাকা না দেওয়ায় বাদীর ছেলেসহ অন্য আসামিরা ঘরের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে ল্যাপটপ, কাঠের আলমিরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এসময় বাদী ও তার স্বামী বাঁধা দিলে আসামিরা তাদের মারধর করে এবং খুন, জখমসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে আসামিরা আলমারির ভেতর থাকা ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ ১২ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বাদী তার ছেলে ও ছেলের বখাটে বন্ধুদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় নামধারী চারজনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বাদীর ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।