মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক বেপারীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তালহা (১৬)। তাদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সোহেল ও মিলন পক্ষের বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে সোমবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নাসির উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন এবং অপর পক্ষের কিশোর তালহা আহত হয়।
আহত নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তারা বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি মেসে বসে থাকার সময় সোহেল মিঝি, মনির ও মিলনের নেতৃত্বে ২০-২২ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে ছেলে জেম বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা। পরে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে জেম নিখোঁজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সোহেল মিঝি ও মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবেদ আহমেদ জানান, নাসির উদ্দিনের মাথা ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর মাথার দুই জায়গায় ও গালে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।