দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বুধবার (২০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট ৩ জন মারা গেছেন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২ জন এবং ঢাকা বিভাগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২০ মে) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৪৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৫৭ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬৭ জনের শরীরে।
সংক্রমণের পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫ হাজার ১২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ হাজার ১২০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও নতুন করে ১৩৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।