সরাইলে সেফটি ট্যাঙ্কিতে কাজ করতে নেমে ৪ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
| আপডেট: ২১ মে, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম | প্রকাশ: ২১ মে, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
সরাইলে সেফটি ট্যাঙ্কিতে কাজ করতে নেমে ৪ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসতবাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কির ভেতরে কাজ করতে গিয়ে ৪ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির ট্যাঙ্কির ভেতরে একে একে ৪ জন শ্রমিক প্রবেশ করে ফিরে না এলেও বিকাল ২টায় গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন। ততক্ষণে ৪ জনের কেউই আর জীবিত নেই। বিকাল পোনে ৬ টার দিকে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সরাইল থানা পুলিশ ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে নির্মাণ শ্রমিক আরমান মিয়া (১৮), ইমাম হোসেন (৩০), মেহেদী মিয়া (১৮) ও হৃদয় মিয়ার (২৪) লাশ উদ্ধার করেন। ঘটনার পরই বাড়ির মালিক আলী মিয়া সটকে পড়েছেন। 

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানায়, নতুন বসত ঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন। সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ কাজ চলছিল সেফটি ট্যাঙ্কির। গতকাল সকাল ১১টায় ট্যাঙ্কির ভেতরে বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে  প্রথমে নামে শ্রমিক গলানিয়া গ্রামের রোকন আলীর ছেলে হৃদয় মিয়া। অনেকক্ষণ পরও তার কোন সাড়া শব্দ নেই। ডাকলেও জবাব নেই। তাই হৃদয়কে উদ্ধার ট্যাঙ্কিতে নামে তারই খালাত ভাই শ্রমিক মো. মোশাররফ মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেন। সেও ফিরে আসেনি। ইমাম হোসেনকে উদ্ধার করতে নামে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী মিয়া। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্যাঙ্কি থেকে ৩ জনের কেউই উঠে আসছে না। তখন বাড়ির মালিক এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে আর ছটফট করেন। পাশের বাড়ির ভবন নির্মাণ কাজে ব্যস্ত ধর্মতীর্থ গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরমান মিয়াকে ডেকে আনেন আলী মিয়া। সাহসী ছেলে উপাধি দিয়ে ট্যাঙ্কির ভেতরকে ওই ৩ শ্রমিককে উদ্ধার করতে সবশেষে আরমানকে নামান। আরমানও দ্রূত ট্যাঙ্কির ভেতরে প্রবেশ করে। বেলা ২টা পর্যন্ত যখন ৪ জনের কেউই আর ফিরে আসছে না। বাহির থেকে চিৎকার করে ডাকার পরও কেউ ভেতর থেকে শব্দ বা কোন উত্তর দিচ্ছে না। এতে আলী মিয়ার সন্দেহ হয়। তখন আলী মিয়া বিষয়টি আশপাশের ও লোকজনকে অবগত করেন। এক সময় জেনে যায় গোটা গ্রাম। সকলেই সন্দেহ করেন এত লম্বা সময় ট্যাঙ্কির ভেতর শ্রমিকরা জীবিত থাকার কথা না। চারিদিকে মানুষের দৌঁড়াদৌঁড়ি আর্তচিৎকার ও স্বজনদের আহাজারি শুরূ হয়। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারূক আহমেদের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরূ করেন। তারা ট্যাঙ্কির মুখ ভেঙ্গে বিকাল পোনে ৬টার দিকে ভেতরে প্রবেশ করে একে একে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে আনেন। তখন স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে সেখানকার আকাশ বাতাস। আরমানের স্বজনসহ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, আরমানকে পাশের ভবন থেকে আলী ডেকে এনে ট্যাঙ্কিতে নামিয়েছেন। ধারণা করা ট্যাঙ্কির ভেতরে থাকা বিদ্যুৎ লাইনে স্পৃষ্ট হয়েই ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কারণ একেবারে নতুন ট্যাঙ্কিতে গ্যাস হওয়ার কথা নয়। আর বেলা ২টার পর আলী মিয়া ট্যাঙ্কির বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন। অফিসার ইনচার্জ মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ৪ জনের লাশই ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। লিখিত কোন অভিযোগ পেলে আইনি প্রকিয়ায় ব্যবস্থা নিব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে