বরিশালের মুলাদীতে মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইজিপি কার্যালয় ও দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে। মুলাদী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম, পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিনসহ ৬জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের পূর্বষোলঘর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নান ব্যাপারীর ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ মহা পরিদর্শকের অভিযোগ নিরীক্ষণ দপ্তর এবং দুর্ণীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে মুলাদী থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিন অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন, মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা, সাবেক এসআই মো. হারুন অর রশিদ, মো. শেখ ফরিদ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। পুলিশ কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের জুন ও জুলাই মাসে ১ লাখ টাকা নিয়ে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে তারা ওই মামলায় মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর তার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় এবং তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় হামলাকারীরা ওই দিন বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যান। ওই ঘটনায় পরদিন ২ ডিসেম্বর তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মো. জহিরুল আলম মামলা না নিয়ে একটি অভিযোগ নেন। পরে ৩ডিসেম্বর মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরনী (এফআইআর) করতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওসি জহিরুল আলম ও এসআই শেখ ফরিদ। ওই টাকা না দেওয়ায় থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন নাসরিন আক্তার। জয়নাল আবেদীন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, টাকা দিয়ে এফআইআর না করায় পুলিশ কর্মকর্তারা ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পুনরায় তার বাড়িতে যান এবং তল্লাশীর নামে আসবাবপত্র তছনছ করেন। ওই ঘটনার পর পর স্থানীয় এক নারী তার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের জুন ও জুলাই মাসে ৪টি বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা মোট ১ লাখ টাকা নেন। কিন্তু তারা চুড়ান্ত প্রতিবেদন না দিয়ে উল্টো আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে টাকা চাইলে তারা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে সময় ক্ষেপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরৎ না পেয়ে আইজিপি ও দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান জয়নাল আবেদীন। এ ব্যাপারে মুলাদী থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বলেন, জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর ক্ষোভ থেকে তিনি মিথ্যা অভিযোগ করে থাকতে পারেন। মুলাদী থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমানে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন জানান, জয়নাল আবেদীনের থেকে কোন পুলিশ কর্মকর্তা টাকা নিয়েছেন কিনা জানা নাই। তার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলায় সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। সেখানে টাকা-পয়সা লেনদেনের সুযোগ ছিলনা।