বজ্রপাতে নিরাপদ থাকার জন্য করণীয়

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
বজ্রপাতে নিরাপদ থাকার জন্য করণীয়

যত্রতত্র বজ্রপাতে জীবনহানির ঘটনা ঘটছে। আকাশে বিজলী চমকালেই প্রাণনাশের ভয়ে মানুষ অত্যন্ত বিচলিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটাছুটি করছে। এটা যে শুধু মানুষের উপরই পড়ছে তা নয়, গরু, মহিষ, গাছপালা প্রভৃতির উপর পতিত হয়ে ঝলশে দিচ্ছে। অতীতে বিভীষিকাময় এই বজ্রপাতের ঘটনা খুব কমই শোনা যেতো। বর্তমানে এর মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলছে এবং নিমিষেই ঘটছে প্রাণহানী। রেডিও, টেলিভিশনের খবর চালু করলেই এবং পত্রিকার পাতা খুললেই বজ্রপাতে হতাহতদের ভয়ঙ্কর ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আবহাওয়াবিদ ও বিজ্ঞানীরা এর কারণ হিসেবে বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা, বিভিন্ন কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্যাসকে দায়ী করছেন। কেউ কেউ বনজঙ্গল, বড় বড় গাছপালা নিধন ও তাল গাছের স্বল্পতাকে দায়ী করেছেন। আবহাওয়াবিদগণ বলছেন, মূলত বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এসব ঘটে থাকে। বজ্রপাতে নিরাপদ থাকার জন্য করণীয় বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো হলো-প্রতিটি ভবনে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন নিশ্চিতকরণ। আকাশে মেঘ দেখা দিলে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। প্রয়োজনের রাবারের জুতা ও কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করা। বজ্রপাতের সময় দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া। বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি বা রেলিং, মোবাইল টাওয়ার, উঁচু গাছ ইত্যাদির সংস্পর্শে না থাকা। বজ্রপাতে সময় সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং এগুলো বন্ধ রাখা।

নদী, পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ে থাকা অনিরাপদ। গাড়ির ভেতরে অবস্থান করলে, গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ না ঘটানো। বজ্রপাতের সময় জানালার কাছাকাছি ও বারান্দায় না থাকা। ঝড় -বৃষ্টির মৌসুমে বাইরে গমনাগমনের আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস জেনে মেনে চলা। তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করে। বেশি করে তাল গাছ রোপন। যেকোনো দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা নিতে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রাখা অথবা হট লাইন নাম্বার ১০২-তে কল করা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে