সুন্দরবনে আরও ৬ জেলে অপহৃত, আতঙ্কে মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সুন্দরবনে আরও ৬ জেলে অপহৃত, আতঙ্কে মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা

পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর তাণ্ডব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শরণখোলা রেঞ্জ থেকে আরও ৬ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে এই দুর্র্ধষ দস্যু দল। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতেও সুন্দরবনের ফুসফুসের চর এলাকা থেকে ১২ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরপর এই অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২০ মে) রাত ১২টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের সাগরদ্বীপ ছাপড়াখালী এলাকার নদী থেকে মাছ ধরার সময় অস্ত্রের মুখে ওই ৬ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের দুই ভাই হাফিজুল (২৪) ও ফয়জুল (২০), বেল্লাল মীর (৩৫), ছলেমান (৪০) এবং বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইস গ্রামের হাসিব (২১)।

সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু দলগুলোর মধ্যে 'জাহাঙ্গীর বাহিনী' সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ফলে সুন্দরবনের সাধারণ জেলে ও মৌয়ালদের কাছে এই বাহিনী এখন এক মূর্তিমতি আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শরণখোলার রাজাপুর এলাকার অপহৃত জেলেদের মহাজন জানান, বুধবার রাতে ছাপড়াখালী এলাকার নদীতে যখন জেলেরা মাছ ধরছিলেন, তখন দস্যুরা আকস্মিক তাদের নৌকা ও ট্রলারে হানা দেয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রের মুখে ৬ জেলেকে জিম্মি করে তারা গহীন বনের দিকে নিয়ে যায়। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দস্যু আতঙ্কে অনেকেই এখন বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ী ও দরিদ্র জেলেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে দস্যু ভীতিতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, অন্যদিকে অপহৃতদের ছাড়িয়ে নিতে দফায় দফায় মুক্তিপণ দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সুন্দরবনকে আবারও দস্যুমুক্ত করতে অতীতের মতো র‌্যাবের জোরালো অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও মহাজনেরা।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, "একদিন আগেই ফুসফুসের চর থেকে ১২ জেলে অপহৃত হয়েছিলেন, যাদের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে আবারও ৬ জেলেকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। পুরো বনজুড়ে এখন জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।" তবে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে