খুলনার দাকোপের খোনা এলাকায় একটি মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৫জন আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে। এ ঘটনায় গ্রেফতার অভিযানে আসা র্যাবের গাড়ী ভাংচুর এবং আসামী ছিনিয়ে নেয় উত্তেজিত জনতা। স্থানীয় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের বাহিরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে বেশ কয়েক বছর যাবৎ আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ সরদার পক্ষ দখলে রেখে মাছ চাষ করে আসছে। সম্প্রতি খোনা এলাকার মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীর নেতৃত্বে স্থানীয় অপর পক্ষ ওই ঘেরের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দাকোপ থানায় দায়েরকৃত মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আকরাম ফকির বাদি হয়ে তাদের ১১ জনের নামে দাকোপ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যা দাকোপ থানার মামলা নং ৮ তাং ২১/০৫/২৬। আকরাম আলী ফকিরের ছেলে আবদুল্লাহ ফকির গংদের দাবি গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরার সময় প্রতিপক্ষের ২০/২৫ জন ফের উক্ত ঘেরে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। হামলায় আবদুল্লাহ গংদের ৫জন গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে ভর্তি হয়েছে। আহতরা হলেন পানখালী এলাকার জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাত সরদার (৫৪)। অপরদিকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে মুকুন্দ বাচ্চু পক্ষের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের চেষ্টাকালে খুলনা র্যাব- ৬ এর সদস্যরা সেখান থেকে ওই মামলার এজাহার ভূক্ত আসামী মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময়ে চালনা আচাঁভূয়া বাজার এলাকায় র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা র্যাবের গাড়িতে হামলা এবং ভাংচুর করে আসামী ছিনিয়ে নেয়। অপরদিকে এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে দাকোপ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শেখ মোজাফ্ফার হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানার নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বহিরাগত ব্যবসায়ী রাশেদ কামাল এবং আওয়ামী দোসর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদের সহযোগীয়তায় আকরাম আব্দুল্লাহ গ্রুপ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রসায়ের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি ওই জমি জবর দখলে নিয়ে অবৈধভাবে ঘের করে আসছে। তারা প্রশাসন দিয়ে নিরিহ এলাকাবাসীর হয়রানী করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের চেষ্টা করলে সেখানে র্যাব দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হয়। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জন্য প্রশাসনকে সহযোগীতা করি। তারা বলেন ব্যবসার নামে রাশেদ কামাল তার প্রজেক্টে অনৈতিক কর্মকান্ড করে। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন আসামী ছিনিয়ে নেওয়া এবং র্যাবের গাড়ী ভাংচুরের বিষয় আমাদের জানা নেই। এবিষয়ে দাকোপ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খায়রুল বাসার বলেন, আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় র্যাব পুলিশসহ প্রশাসনের অতিরিক্ত জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।