রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর মোড়ে অবস্থিত জেলা পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তানোর থানায় গত ২০ মে বুধবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রাণপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর বাবা মৃত আব্দুল আলিম ১৯৯৬ সালের ১৬ আগস্ট জেলা পরিষদ থেকে কৃষ্ণপুর মোড়ে অবস্থিত ১৬ ফিস প্রস্থ ও ২৪ ফিট দৈর্ঘ্য আয়তনের একটি জায়গা বিধিমতে লীজ নেয়। পরবর্তীতে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধানের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আলিমের ছেলে সারোয়ার।
এঅবস্থায় মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গত ২০ মে দুপুরে আব্দুল আহাদ (৫০), আব্দুল ওয়াদুদ (২৮) ও উপজেলার বনকেশর (চকপাড়া) গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫) এর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জন ব্যক্তি দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রড, হাসুয়া, কুড়াল ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা দোকানে ঢ়ুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ও বিভিন্ন আসবাবপত্র বিনষ্ট করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়াও দোকানে থাকা প্রায় ৫০ বস্তা ধান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ঔধহধঃধ ইধহশ চখঈ ও চঁনধষর ইধহশ চখঈ-এর দুটি চেক বইও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এনিয়ে ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ থেকে তার বাবার লিজ নেওয়া জায়গায় প্রায় ৩০ ধরে বছর ব্যবসা করছেন তিনি। অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ আগেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন। বর্তমানে পুনরায় আরও টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এবং দোকান ছেড়ে না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে নিজেদের “জামায়াত কর্মী” পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দখলদারিত্ব চালানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেয় এবং ধারণকৃত ভিডিও জোরপূর্বক মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি আর দোকানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে বর্তমানে সারোয়ার হোসেন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে গ্রেফতার করা হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এনিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ বলেন- শুধু তিনি নন, সারোয়ারও আ.লীগ করে। সারোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের জায়গা তার কাছে পজিশন বিক্রি করেছে। এজন্য তার দোকানঘর ভাংচুর করা হয়েছে বলে দম্ভোক্তি করে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে, লিখিত অভিযোগ হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।