‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা সেই মাহাদী থানাতেই নিলো আশ্রয়

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলা সেই মাহাদী থানাতেই নিলো আশ্রয়

চলতি বছরের শুরুতে ওসিকে হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান এবার নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান দাবি করেছেন তার ওপর ছাত্রদলের নেতকর্মীরা হামলার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে নিজেই জানালেন।

আজ বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে মাহদী বলেন, “ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই? আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।”

মাহদী হাসানের দাবি, আমি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি তখন আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল তার পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি থানার ভেতরে অবস্থান করছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের জেরে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, মাহাদীর প্রকাশ করা ভিডিওতে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবেও শনাক্ত করতে পারেননি। এ ঘটনায় মাহাদী একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন, যা পুলিশ যাচাই করে দেখছে।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক যুবককে ছাড়াতে গিয়ে মাহাদী হাসান ওসির কক্ষে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরদিন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে