শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে

পিএফজির সঙ্গে কাজ করবে চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদ

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
পিএফজির সঙ্গে কাজ করবে চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদ

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকল স্তরে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানে দিরাই পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রজেন্দ্রগঞ্জ আরসি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায়। সভা পরিচালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পিস অ্যাম্বাসেডর গোলাপ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন চরনারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল, ব্রজেন্দ্রগঞ্জ আরসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশফাক উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান সুধারঞ্জন তালুকদার এবং শ্যামারচর দাখিল মাদ্রাসা মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল গণি। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কুদরত পাশা।

সভায় বক্তারা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। সংগঠনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ‘দ্বন্দ্ব নিরসন কমিটি’ ও ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাপ মিয়া বলেন, “পিএফজির শান্তি-সম্প্রীতির কাজের সঙ্গে চরনারচর ইউনিয়নের মানুষ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমরা এলাকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। আমাদের এলাকায় কোনো খেলার মাঠ ছিল না। হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে একটি মাঠ নির্মাণ করেছি, যার নাম রাখা হয়েছে ‘শ্যামারচর আখড়া সম্প্রীতির ময়দান’। শুধু মাঠ নয়, সমাজের বিচার-সালিশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও আমরা সম্প্রীতির চর্চা করছি।” তিনি এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব নিরসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউপি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। পিএফজির মতো একটি সংগঠনকে সহযোগী হিসেবে পেয়ে তারা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, “আমি ঘোষণা দিয়েছি আমাদের ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা হবে। সে লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছি।” তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পিএফজির বিভিন্ন কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

চরনারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, “আমরা গোলাপ মিয়ার মাধ্যমে এ প্রকল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সভায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। দেশে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

এসময় বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য প্রমিলা রানী, প্রিয়বালা, প্রণতি রানী, জসিম উদ্দিন, খোকন কিবরিয়া, শাহাব উদ্দিন, তরুণ চন্দ্র, ব্রজেন্দ্রগঞ্জ আরসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অসিত বরণ চৌধুরী, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, যুবদল নেতা আজমান মিয়া, ছাত্রদল নেতা দবিরুল সিদ্দিকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে