বারবার নির্বাচন স্থগিত

প্রশ্নের মুখে বিএসবিআরএ’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ এএম
প্রশ্নের মুখে বিএসবিআরএ’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)-এর নির্বাচন আবারও স্থগিত হওয়ায় সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একের পর এক তফসিল ঘোষণা, প্রস্তুতি গ্রহণ এবং শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় সাধারণ সদস্য, ভোটার ও শিপইয়ার্ড মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চলমান এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিল্পের অবস্থান এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

আগামী ১৩ জুন বিএসবিআরএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত তারিখের মাত্র দুই দিন আগে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই নির্বাচন প্রক্রিয়া অকারণে জটিল করে তোলা হচ্ছে, যা সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। সীতাকুণ্ডের কয়েকজন শিপইয়ার্ড মালিক জানান, বিএসবিআরএ শুধু একটি ব্যবসায়ী সংগঠন নয়, দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত নেতৃত্বের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক বলেন, যে সংগঠন দেশের শত শত কোটি টাকার শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই সংগঠনের নির্বাচন বারবার স্থগিত হওয়া দুঃখজনক। এতে সদস্যদের আস্থা কমছে এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এদিকে সভাপতি পদপ্রার্থী আমজাদ হোসেন চৌধুরী নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ ভোটারদের বিপুল সমর্থন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখে একটি সুবিধাভোগী মহল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে। আদালত আমার প্রার্থিতার বৈধতা নিশ্চিত করার পরও নতুন নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএসবিআরএ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকার সংগঠন নয়। এটি সদস্যদের সংগঠন। এখানে নেতৃত্ব নির্ধারণ হবে ভোটারদের রায়ের মাধ্যমে। তাই সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।

আমজাদ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের শর্ত বাস্তবায়ন এবং গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ব্যবস্থায় উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সময়ে নেতৃত্ব সংকট শিল্পের জন্য কোনোভাবেই শুভ নয়। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ইস্পাত শিল্পের অন্যতম কাঁচামালের উৎস হচ্ছে জাহাজভাঙা শিল্প। হাজার হাজার শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর জীবন-জীবিকা এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে বিএসবিআরএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব সংকট চলতে থাকলে তার প্রভাব পুরো শিল্পখাতেই পড়তে পারে। এ অবস্থায় সাধারণ সদস্য ও শিপইয়ার্ড মালিকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। কারণ একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও নির্বাচিত নেতৃত্বই পারে দেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে বর্তমান অনিশ্চয়তা থেকে বের করে এনে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিতে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে