চট্টগ্রামের শিল্প, বন্দর ও পর্যটনসমৃদ্ধ জনপদ সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত আলোচিত, পরিচিত এবং অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এমপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও নিজের আদর্শে অবিচল থাকায় দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সমর্থকদের কাছে তিনি ত্যাগ, সহনশীলতা ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক এবং মজলুম জননেতা হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছেন।
তিনি কেবল একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ঋঈঅ)। আর্থিক খাত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর এই উচ্চতর দক্ষতা তাঁকে অন্য সবার চেয়ে এক আলাদা ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি শিক্ষাদান ও পেশাদারিত্বের জায়গায় তাঁর বিশেষ অবদান সচেতন মহলে বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ বছরের কারাবাস এবং একের পর এক মামলার মতো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে কোনো ঝড়-ঝাপ্টাই তাঁর রাজনৈতিক মনোবলকে দমাতে পারেনি। বরং দলের চরম দুঃসময়ে মাঠের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতেও কর্মীদের সাহস জোগানোই ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক, যা তাঁকে তৃণমূল পর্যায়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর পরিচিতি শুধু রাজনৈতিক বলয়েই সীমাবদ্ধ নয়। এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা, সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন দুর্যোগে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জন্য সহযোগিতার দুয়ার সবসময় উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে তিনি একজন মানবিক সমাজসেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এদিকে এলাকার সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজের মতে, দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সীতাকুণ্ডে এখনো বেশ কিছু বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, শিল্পকারখানার বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত দূষণে পরিবেশ বিপর্যয়, গ্রামীণ সড়কসমূহের টেকসই সংস্কারের অভাব, বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব। এসব সংকট নিরসনে তাঁর মতো একজন দূরদর্শী, শিক্ষিত ও দৃঢ়চেতা পেশাদার (এফসিএ) ব্যক্তিত্বের কার্যকর নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অসীম সক্ষমতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর জীবনকে ত্যাগ ও সহনশীলতার এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত করেছে। এই গুণাবলীর কারণেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তাঁর প্রতি একটি গভীর সমীহ ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়েছে। আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে এখন সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণের মূল প্রত্যাশা, আগামী দিনে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ব্যাপক শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিকল্পিত টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ মডেল জনপদে পরিণত করতে আরও বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।