মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করতে “ঝঃধৎঃঁঢ়, ঝপরবহপব চৎড়লবপঃ ধহফ ওহহড়াধঃরড়হ ওফবধ ঝযড়পিধংরহম চৎড়মৎধস”অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১২ জুন লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার মাহবুবা নাসরিন কেয়া।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, লৌহজং উপজেলা সহঃ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরা আক্তার, লৌহজং সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহিদুর রহমান শিকদার, হলদিয়া সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদয়ালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.রফিকুল ইসলাম, লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌস হেলাল, লৌহজং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস, যশলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, লৌহজং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু নাসের খান লিমন, সাধরন সম্পাদক তাজুল ইসলাম রাকিবসহ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ প্রদর্শনীতে উপজেলার ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও স্টার্টআপ আইডিয়া উপস্থাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজের প্রদর্শনীর সকল দিক বিচার বিবেচনা ও বিচারকমন্ডলীর মতামতের উপর ভিত্তি করে হলদিয়া সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম স্থান অধিকার করে, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে কাজির পাগলা অভয় তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি করা প্রকল্প। এছাড়াও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সনদ ও ক্রষ্ট প্রদান করা হয়। এ প্রদর্শনীতে বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেন লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার রুকাইয়া সারমিন।
প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক নানা উদ্যোগ বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সভাপতির বক্তব্যে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, “দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্যোগই আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলবে।” শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা জরুরি।” অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রকল্প পরিদর্শন শেষে অতিথিরা তাদের উৎসাহ প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ঊফঁপধঃরড়হধষ ঊীপবষষবহপব ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ঝপযবসব (ঊঊঝঝ)-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- “মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”