হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও-কালিকাপুর গ্রামে মাদকবিরোধী সংগঠনের তিন সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় যুবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে ‘নোয়াগাঁও সমাজকল্যাণ যুব সংঘ’ নামে একটি মাদকবিরোধী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটি মাদকবিরোধী সমাবেশ, সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল উচ্ছেদ এবং মাদক বিক্রি বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সংঘের সদস্য শিমুল (১৯), পিতা- মানিক মিয়া, নাহিদ (২০), পিতা- লিটন মিয়া এবং সায়মন (২৫), পিতা- মকলিছ মিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের নুরুল হক বাহিনীর লোকজন হামলা চালায়। এতে তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে নোয়াগাঁও সমাজকল্যাণ যুব সংঘের সদস্য ও স্থানীয় যুবকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুল হকের একটি কথিত মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল বা আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নোয়াগাঁও সমাজকল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি জাবেদ মিয়া বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। যতদিন আমাদের গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে না পারব, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আমার সংগঠনের তিন সদস্যের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। মাদকসেবীদের বিষয়ে পুলিশকে ফোন দিলেও অনেক সময় তারা আসে না। দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর থানা পুলিশের কোনো কার্যকর সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে গ্রামের এপিপি অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান বলেন, “আমি শুরু থেকেই মাদকবিরোধী এ সংগঠনের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় যুবকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে পুলিশের আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশি সহযোগিতা না পাওয়ার যে অভিযোগ ও ক্ষোভ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের উচিত মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।” এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ সর্বদা সহযোগিতা করে।