মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক মৎস্যচাষী আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের নানা কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় স্থানীয় অগ্রগামী মৎস্যচাষীরা অংশগ্রহণ করেন। মৎস্য খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তোলাই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন। কর্মশালায় ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের অফিসার (সেলস) জয়ন্ত কুমার সাহার সঞ্চালনায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ মো. আরাফাত হোসেন গালিব। প্রশিক্ষণে পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, প্রোবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার, এয়ারেটর পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাছের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী চাষীদের জন্য হাতে-কলমে শেখার সুযোগও রাখা হয়। উন্মুক্ত আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ জানায়, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ভবিষ্যতেও চাঁদপুর জেলায় এ ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।