চাটমোহরে

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে

‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা চাটমোহরে যেমন নাগরিক সেবা শুন্যের কোঠায়,তেমনি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতি চলমান। একইসাথে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হ্েচ্ছ লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি উন্নয়নে কাজে ঠিকাদার নিয়োগে যেমন দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে,তেমনি বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। নিডিআুল মোতাবেক কাজ হচ্ছেনা। নবকিছুই হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। 

পৌরসভার চাটমোহর নতুন বাজার খেয়াঘাট থেকে হারান মোড় পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ নিম্নমানের নিমাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা যায়,গত কৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বার বার  সতর্ক করার পরও নিম্নমানের খোয়া মেশানোতে অনুপাতে গড়মিল,বেজ খনন ও ঠিকমত রোলিং না করাসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে রাস্তাটির ঢালাইয়ের কাজ করায় পাকাকরণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৌর প্রশাসক সরেজমিনে গিয়ে সড়কের কাজে ব্যবহৃত উপকরণ নিম্নমানের প্রমাণ পান। তিনি সিডিউল অনুযায়ী গুনগত মান ঠিক রেখে  সঠিক নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে এই কাজ করার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। শুধু এই সড়কই নয়। পৌরসভার বেশ কিছু সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে যেনতেনভাবে। কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। যেগুলোতে ইতোমধ্যেই নিম্নমানের নির্মানসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌরবাসী বয়েই কোন প্রতিবাদ করতে পারেননা। পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী ও উপ সহকারি প্রকৌশলীর জ্ঞাতসারেই এসকল দূর্নীতি করা হচ্ছে। অনেক সময় এই দুই প্রকৌশলীর উপস্থিতিতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই করা করা হয়েছে। এদিকে চাটমোহর পৌরসভার কাজীপাড়া মহল্লায় জেলা পরিষদের পুকুর পাড়ে কম ব্যাসার্ধে পিলার ঢালাই করছেন ঠিকাদার। একাধিক সূত্র জানায় ১০ ইঞ্চির ঢালাইয়ে করা হচ্ছে ৭ ইঞ্চি। ঠিকাদারা ইচ্ছেমতোই যেন কাজ করছে। সহযোগিতা করছেন পৌরসভার দুই প্রকৌশলী।  

চাটমোহর পৌরসভা এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অনিয়মই এখন পৌরসভার নিয়ম। বিশেষ করে ভুয়া বিল ভাউচারের যেস ছড়াছড়ি। পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজেসে পৌরসভার রোড রোলার,গার্বেজ ট্রাক আর ভ্যান গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দূর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত এবং পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে পৌরবাসীর পক্ষ থেকে। 

এদিকে চাটমোহর পৌরসভার টেন্ডার নোটিশ প্রকাশ করার পরও বছরের পর বছর পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিল দেওয়া হচ্ছেনা। টু-পাইসের বিনিময়ে অনেকের বিল পরিশোধ করা হলেও দু’একজন সাংবাদিকের বিল রজস্যজনক কারণে দেওয়া হচ্ছেনা। এমনকি পত্রিকার বিল কর্তন করেও নিতে বাধ্য করা হয়েছে একজন সাংবাদিককে। এসকল অনিয়মের প্রতিকার কোনভাবেই মিলছেনা।  পৌরবাসী চাটমোহর পৌরসভার অনিয়ম আর দূর্নীতির তদন্ত করে দূর্নীত দমন কমিশনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে