রোহিঙ্গা ক্যাম্প বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা

জার্সি ধার করে রের্কড করা খেলা উপভোগ রোহিঙ্গা শিশুরা

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
জার্সি ধার করে রের্কড করা খেলা উপভোগ রোহিঙ্গা শিশুরা

জার্সি ধার করে রেকর্ড করা ম্যাচ দেখে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপভোগ করছে রোহিঙ্গা শিশুরা। বিশ্বকাপের খেলা হয় রাতে, কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশুরা তা দেখে পরদিন সকালে। নিরাপত্তার কারণে ক্যাম্পে সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তাই রাতের ম্যাচ রেকর্ড করে রাখা হয়। সকালে দেখানো হয় ক্যাম্প ১৯-এর একটি স্পোর্টস সেন্টারে। এই ছোট্ট ব্যবস্থাটুকুই এখন শরণার্থী শিশুদের কাছে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজন।  রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা নিজেরাও মাঠে নামে স্থানীয় টুর্নামেন্টে। শরণার্থী বসতিগুলোতে নিয়মিত আসা একটি মোবাইল স্পোর্টস লাইব্রেরী থেকে তারা ধার করে নেয় পছন্দের দলের জার্সি, খেলা শেষে সেই জার্সি ফিরিয়ে দিতে আসে ক্যাম্প ১৯-এর সেন্টারে। আর সেখানেই মিলে যায় বিশ্বকাপের আগের রাতের ম্যাচ দেখার সুযোগ। স্পোর্টস ক্লাবটি পরিচালনা করে ফ্রেন্ডশিপ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

সংস্থার সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর মোল্লা শিহাব উদ্দিন বলেন, বড় টেলিভিশন স্ক্রিনসহ আমাদের একটি ভিউয়িং হল আছে। যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ রেকর্ড করে পরদিন সকালে দেখানোর ব্যবস্থা করি। ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা ম্যাচ দেখতে আসে এখানে। যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মেয়ে। মূলত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করেছে। কিন্তু ১৯৮০-র দশকে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ মানুষ পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা গাদাগাদি করে বসবাস করছে, যেখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা মেধা-দক্ষতা বিকাশের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এই বঞ্চনার মধ্যেই ব্যতিক্রম তৈরি করার চেষ্টা করছে ক্যাম্প ১৯-এর এই ক্লাব। বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ক্যাম্পে খেলাধুলার প্রসারে কাজ করা ডাচ সংস্থা কেএলএবিইউ-র সহযোগিতায় ২০২১ সালে এটি চালু হয়। অর্থায়ন করে ফরাসি ফুটবল ক্লাব পারি সাঁ-জেরমাঁ। বর্তমানে ক্লাবে নিয়মিত সদস্য এক হাজার ৬০০ রোহিঙ্গা শিশু। যাদের ৬০০ জন মেয়ে। ফুটবলের পাশাপাশি এখানে ক্রিকেট ও ভলিবল শেখার সুযোগও আছে। বেশিরভাগ মেয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার ক্লাবে আসে। বাংলাদেশের এই দুর্গম শরণার্থী ক্যাম্পেও মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসছে দেখে ভালো লাগে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা প্রসারিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে