ভাঙ্গুড়ায় বাজার থেকে ধান কিনে খাদ্য গুদামে বিক্রি

এফএনএস (মনিরুজ্জামান ফারুক; ভাঙ্গুড়া, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ভাঙ্গুড়ায় বাজার থেকে ধান কিনে খাদ্য গুদামে বিক্রি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছে এসব ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এর সত্যতাও মেলে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদাম সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। শর্ত মোতাবেক কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রত্যেক কৃষক এক মন থেকে তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রয় করতে পারবে। ভাঙ্গুড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৭ শত কৃষকের কৃষি কার্ড এবং তাদের নামে ব্যাংকে কৃষক একাউন্ট রয়েছে। প্রত্যেক কৃষক খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করার পরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি একাউন্টে টাকা পরিশোধ করার নির্দেশনা রয়েছে। 

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের ধান বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ধান ফেরত দিয়ে দেয়। অথচ স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা হাট বাজার থেকে ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে ১৪৪০ টাকা মণ দরে খাদ্য গুদামে বিক্রি করছে। এতে প্রতি মেট্রিক টন ধানে প্রায় তিন হাজার টাকা করে লাভ করছে ব্যবসায়ীরা। আর এই লাভের অংশ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য গুদামের দুইটি গুদামের সামনে দশ মেট্রিক টন ধান বোঝাই নসিমন গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। একটি গাড়ি থেকে ধান নামিয়ে গুদামের ভেতরে নেয়া হচ্ছে। অথচ এখানেই ধানের মালিক কিংবা কোন কৃষক নেই। গাড়ির চালকরা জানান এই ধান উপজেলার ধান ব্যবসায়ী মুক্তি সরকার ও শরিফুল ইসলামের। উপজেলার কৈইডাঙ্গা গ্রাম থেকে এসব ধান আনা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, এগুলো আমার আত্মীয় স্বজনের ধান। তারা সবাই কৃষক। কৃষকদের একাউন্টেই টাকা যাবে। আমি আমি শুধু সেগুলো পৌঁছে দিয়েছি। এ বিষয়ে হাত গুদামের উপপরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয়। টাকাও তাদের একাউন্টে যায়। আজকে নিয়ে আসা ধানের মালিক কৃষকরা না হয়ে থাকলে এ ধান নামানো হবে না। এরকম ধান আসলে আমরা ফেরত পাঠাই। এখানে কোন অনিয়ম করা হয় না। কাগজপত্রে সবকিছুই ঠিকঠাক আছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে