নীলফামারীর সৈয়দপুর সাব-রেজিস্টার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত নানা সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে সেবা গ্রহণ ও প্রদানকারী নারীদের জন্য পৃথক নামাজঘর ও বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় নথিপত্র সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট কাজে সাব-রেজিস্টার অফিসে আসেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সেবাগ্রহীতা থাকলেও তাদের জন্য কোনো পৃথক নামাজঘর কিংবা ব্যবহার উপযোগী বাথরুম নেই। ফলে অনেক নারীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এদিকে অফিসে পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে বালাম এবং সার্টিফাই কপির লেখক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ভবনের খোলা বারান্দায় বসে লেখার কাজ করছেন। এতে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতাদের ভিড় বাড়ছে,অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,বছরের পর বছর ধরে অফিসে রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ কক্ষের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে পুরোনো দলিল ও নথিপত্র বিভিন্ন স্থানে অগোছালোভাবে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতারা জানান,একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব দুঃখজনক। নারীদের জন্য পৃথক নামাজঘর,স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম এবং পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,দ্রুত সময়ের মধ্যে সাব-রেজিস্টার অফিসের অবকাঠামো উন্নয়ন, রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কক্ষ নির্মাণ এবং নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। এখানে শুধু সেবা গ্রহীতা নারীরাই নয়, যে সকল নারী স্টাফ এখানে কর্মরত আছেন,তাদের জন্যও নেই পৃথক কোন নামাজ ঘর। নেই কোন পৃথক বাথরুম। এরা যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তাও খোলা বারান্দায় বসে। কেউ আবার টিনের একটি ঘরের মধ্যে। এ বিষয়ে সাবরেজিস্টার অফিসের এক কর্মচারী বলেন, খোলা বারান্দায় কাজ করছি যুগ যুগ ধরে। অথচ এ কাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীত,গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এভাবেই কাজ করতে হয় আমাদের।